বিভিন্ন রকমের সার্ভেইল্যান্স

বিভিন্ন রকমের সার্ভেইল্যান্স

কম্পিউটার সার্ভেইল্যান্স (Computer surveillance) : কম্পিউটার নিয়ন্ত্রি নজরদারির মাধ্যমে সকল তথ্য ও ইন্টারনেটের data traffic এর উপর নজরদারি কর হয়। কোনাে ব্যক্তি বা গােষ্ঠী বা কোনাে প্রতিষ্ঠান Computer বা internet এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরােধী কোনাে কার্যকলাপ পরিচালনা বা তথ্য পাচার করছে কি না তা এ ধরনের সার্ভেইল্যান্সের দ্বারা মনিটরিং করা হয়ে থাকে।

টেলিফোন সার্ভেইল্যান্স (Telephone surveillance) : টেলিফোনে কথা বলে তথ্য পাচার বা কোনাে অপরাধ সংঘটনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করার জন্য টেলিফোনের কথা টেপ করে রেকর্ড রাখার প্রক্রিয়াও এক ধরনের সার্ভেইল্যান্স বা নজরদারি। একে টেলিফোনে আড়িপাতাও বলা হয়ে থাকে।

ক্যামেরা সার্ভেইল্যান্স (Camera surveillance):

 নজরদারি। Surveillance এর ক্ষেত্রে Camera বহুল প্রচলিত, বিশেষ করে video recording device IP Networking এর মাধ্যমে খুবই কার্যকরীভাবে এর মাধ্যমে খুবই কার্যকরীভাবে কাজ করে। এ নজরদারি ব্যবস্থায় একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থাকে, যেখান থেকে সব Camera দ্বারা নজর রাখা হয়। এ ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা সাধারণত নিরাপত্তারক্ষী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ব্যবহার করে থাকে।

সোশাল নেটওয়ার্ক অ্যানালাইসিস (Social network analysis):

নজরদারির অন্যতম ক্ষেত্ৰই হচেছ সোশাল নেটওয়ার্ক, যেমন- ফেসবুক, টুইটার, লিংকড ইন ইত্যাদি। কে কোথায় কী ধরনের বক্তব্য বা কী ধরনের আচরণ ও কোন ঘটনার এর উপর কী ধরনের প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করছে, তা সোশাল নেটওয়ার্ক নজরদারির মাধ্যমে সহজেই জানা যায়।

বায়োমেট্রিক সার্ভেইল্যান্স (Biometric surveillance):

বায়োমেট্রিক নজরদারির মাধ্যমে মানুষের শারীরিক উপস্থিতি নিশ্চিত এবং তার আচরণের উপর মজরদারি করা সম্ভব। ইদানীং আমাদের দেশে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে অফিস, স্কুল/কলেজ, কর্মক্ষেত্রে হাজিরা নেয়ার মাধ্যমে সবার উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের কাজ কাছে যা এক ধরনের নজরদারি প্রক্রিয়ারই অংশ।

 এরিয়াল সার্ভেইল্যান্স (Aerial surveillance):

এটি শূন্যে ভাসমান কোনো যন্ত্রের বা বিমানের সাহায্যে নজরদারি করার প্রক্রিয়া। যেমন, ড্রোন দ্বারা ভিজুয়াল image সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দল বা এলাকার উপর নজরদারি করা হয়। বিশেষ  করে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বিভিন্ন দেশে আমেরিকান আইন প্রয়োগগকারী  সংস্থাগুলো সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ব্যাপক হারে ড্রোন এর মাধ্যমে সার্ভেইল্যান্স করে আসছে সফলতার সাথে। অনেক সময় বিমান থেকেও সার্ভেইল্যান্স করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে আমেরিকার অ্যাডয়াক্স বিমান Surveillance এর জন্য বহুল ব্যবহৃত।

কর্পোরেট সার্ভেইল্যান্স  (Corporate surveillance): কোনো কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান দ্বারা কোনো ব্যক্তি বা অন্য প্রতিষ্ঠানের উপর নজরদারি করা হয় এ প্রক্রিয়ায়। এ ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা সাধারণত মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ও ব্যবসায় অন্যান্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে খোজখবর নেয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।

বিজনেস ইন্টেলিজেন্স (Business intelligence): ব্যবসার জন্য তথ্যসংগ্রহ করতে সার্ভেইল্যান্স করা হয়। আবার অনেক সময় বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের উপর নজরদারির মাধ্যমে তথ্যসংগ্রহ করে অন্য আরেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়ে থাকে।

ইন্ট্রা-কর্পোরেট সার্ভেইল্যান্স (Intra-corporate serveillance):

কখনো কখনো নিজ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য নজরদারির প্রয়োজন পড়ে, যাতে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীগণ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে আবার অন্য প্রতিষ্ঠানের Corporate বা Business intelligence surveillance ঠেকানোরর জন্যও নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করতে হয়।

 কর্পোরেট ডাটার সরকারি ব্যবহার (Government use of corporate data):

বিভিন্ন সময়ে সরকারি প্রয়োজনে এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থে সরকারি সংস্থাসমূহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দ্বারা সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে থাকে।

মনুষ্য দ্বারা পরিচালিত (Human operative):

প্রায়শই মানুষ দ্বারা নজরদারি করা হয়ে থাকে। যন্ত্রপাতির সাহায্য নিয়ে অথবা যন্ত্রপাতি ছাড়াই মানুষের দ্বারা নজরদারি করা হয়। গোয়েন্দাবৃত্তি বা এসপিওনাজ এর ক্ষেত্রে মানুষ দ্বারা পরিচালিত সার্ভেইল্যান্সই বেশি কাজে আসে।

রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি আইডি ট্যাগিং (RFId taging):

এ ধরনের veillance ব্যবস্থা কোনো বস্তু বা মানুষ বা যানবাহনের উপর নজরদারি করার জন্য ব্যবহৃত হয়। RF (রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি) Id tag এর মাধ্যমে ঐ tag বহনকারী ব্যক্তি বা যানবাহন কোথায় অবস্থান করছে তা জানা যায়।

জিপিএস পদ্ধতি (Global Positioning System (GPS):

বর্তমানে বিমান, জাহাজ, গাড়ি, মোটরসাইকেল এমনকি মোবাইল ফোনের অবস্থান নির্ভুলভাবে নজরদারিতে রাখতে GPS একটি বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম।

মোবাইল ফোন (Mobile phone):

মোবাইল ফোন এমন একটি Device, যা বর্তমানে প্রায় সকলের কাছেই থাকে। শুধু কেবল Smart phone-ই নয় সকল Phone বহনকারীর অবস্থানও খুব দ্রুত শনাক্ত করা এবং নজরদারিতে আনা একটি খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানির সাহায্যে কোন অঞ্চলের টাওয়ারের কাছে নির্দিষ্ট ব্যক্তিটি আছে তার ধারণা পেয়ে যায় সহজেই

মাইক্রোচিপ (Microchip):

মাইক্রোচিপের সাহায্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা যানবাহনের উপর Surveillance করা হয়ে থাকে। এর সিগন্যালের মাধ্যমে Reciverএ Signal Recive করে ঐ ব্যক্তি বা যানবাহনের অবস্থান বের করা যায় কখনও কখনও মাইক্রোচিপ মানুষের শরীরেও স্থাপন করা হয়ে থাকে, যাতে তার অবস্থান সঠিকভাবে নজরে রাখা যায়।

 

0 Comments Here
Authentication required

You must log in to post a comment.

Log in
Related Post
StorialTechConstruct a Video Surveillance System Bangla Turorial
Construct a Video Surveillance System Bangla Turorial

ভিডিও নজরদারি প্রক্রিয়ার গঠন:

ভিডিও নজরদারি সিস্টেম বলতে সাধারণত CCTV Surveillance System-কে। বুঝানো হয়ে থাকে। সিস্টেমের..


StorialTechবিভিন্ন রকমের সার্ভেইল্যান্স
বিভিন্ন রকমের সার্ভেইল্যান্স

কম্পিউটার সার্ভেইল্যান্স (Computer surveillance) : কম্পিউটার নিয়ন্ত্রি নজরদারির মাধ্যমে সকল তথ্য ও ইন্টারনেটের data traffic এর..


ইন্টারনেট কি?..
ইন্টারনেট কি? ইন্টারনেটের মালিক কে?

বর্তমান যুগে আমরা  ৬-৭ ঘন্টা না খেয়ে থাকতে পারি অথবা সারারাত না ঘুমিয়ে থাকতে পারি ।..