ভাবাবেগ

'ভাইয়া ভাংতি দিন তো' বলেই একটা একশত টাকার নোট এগিয়ে দিল মেয়েটা।

ফেসবুকে ব্যাস্ত আমি মেয়েটার দিকে না তাকিয়েই হাত বাড়িয়ে টাকাটা নিয়ে নিলাম। ঝটপট দশটা দশটাকার নোট গুনে বললাম, ' আপু এই নাও, ভাংতি।'

স্বভাবতই ভাংতি পেয়ে মেয়েটার চলে যাওয়ার কথা। সে দাড়িয়ে রইলো । সাথে আরো দুইটা মেয়ে। তিনজনে ফিসফিসিয়ে কথা বলা শুরু করলো। দু চারটা শব্দ তবুও আমার কর্ণগোচর হলো। এতক্ষণ মেয়েটার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করলেও এবার মনোযোগী হতেই হলো ।

তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ' কিছু লাগবে? '

' না ' একটু রুক্ষ শোনালো মেয়েটার কন্ঠস্বর। সাথের একটা মেয়ে বললো, ' এই চল্, ক্লাস শুরু হবে!'

মেয়েটা অস্থির হয়ে নড়াচড়া শুরু করলো ঠায় দাড়িয়ে। তবে সে গেল না। বুঝতে পারলাম মেয়েটা কিছু বলতে চাচ্ছে, কিন্তু বলতে পারছে না। জিজ্ঞেস করলাম, ' আপু কিছু বলবা?'

মানা নাড়লো মেয়েটা। আমি বললাম, 'বলো'

' ভাইয়া, আমাকে আপু ডাকবেন না। '

'কেন?'

' আমি তো আপনার আপু না। '

' আমিও তো তোমার ভাইয়া না । '

মেয়েটার অস্থিরতা বেড়ে গেছে। মেয়েটা কাঁপছে। নাক মুখ লাল হয়ে এসেছে। আমিও কিছুটা আমোদ পাচ্ছি মেয়েটার আচরনে। সে আমাকে ভাইয়া ডাকতে পারে, অথচ আমি তাকে আপু বলতে পারবো না! এ অদ্ভুতুড়ে কথাবার্তা!

' ভাইয়া না। কিন্তু আমার চেয়ে আপনি অনেক বড়। তাই ভাইয়া ডাকতেই পারি।'

অকাট্য যুক্তি। আমি বয়েসে অনেক বড় তার চেয়ে। সে সবে ষষ্ঠতে পড়ুয়া মেয়ে। আমার চোখে বাচ্চা একটা মেয়ে! এখন আমি তার ভাই হলে সে আমার বোন। সহজ হিসেব। কিন্তু আমি যুক্তি তর্কে গেলাম না। ছোটদের সাথে যুক্তিতর্কে জেতা যায়, এতে করে তার ভাবনার তল পাওয়া যায় না। জানতে চাইলাম, ' আচ্ছা তোমাকে আপু ডাকবো না তো কি ডাকবো? '

' আমার নাম ধরে ডাকবেন। '

'তোমার নাম তো জানি না। '

'**'

দুটো অক্ষরের একটা শব্দ। ভালো লাগলো দুই অক্ষরের নামটা। প্রশংসা না করে চুপ থাকতে পারলুম না, ' তোমার নামটা খুব মিষ্টি!' মেয়েটা একটু খুশি হলো, তার ঠোটের কোণে হাঁসি ফুটলো । ছোট একটা মেয়ে, তার এই ভাবাবেগ বোঝার মতো বয়স আমার হয়েছে । মেয়েটার অনুরাগ বলি আর আবেগ বলি সেটা তার কাছে থাকুক, আমি কথা বাড়াতে চাইলাম না। বলে দিলাম, 'আচ্ছা এ নামেই ডাকবো। '

মেয়েটা তবুও- গেল না। দাড়িয়েই রইলো। বুঝলাম তার কথা ফুরোয় নি । বললাম, ' কি হলো, যাও। '

' ভাইয়া...'

' এই চল, স্যার আসতেছে...' হাত ধরে টান দিলো সাথের মেয়েটা। মেয়েটা আরো কিছু বলতে চেয়েছিল, পারলো না। চকিতে ফিরে চলে গেল মেয়েটা। আমিও কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে গেছলাম, পিচ্চি মেয়েটা কি জানি কি বলে ফেলে হঠাৎ! যাক বড় বাঁচা বেঁচে গেলাম। হাঁফ ছেড়ে বাঁচা যাকে বলে।

স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়তেই মনের ভিতরে খচখচানি শুরু হলো, ধুর, কি বলতে চেয়েছিল, যদি শুনতে পেতাম!

অবশ্য এই খচখচানি আমার ভিতরে যে আমি ছাড়া আমার দ্বিতীয় আরেক সত্ত্বা আছে তা তার ভ্রান্তিময় নখের আঁচর!

#ভাবাবেগ
নুর আলম সিদ্দিক

0 Comments Here
Authentication required

You must log in to post a comment.

Log in
Related Post
StorialTechPet Friendly Treatment Centers – Read True Reviews Now!
Pet Friendly Treatment Centers – Read True Reviews Now!

Orange County, Ca (18-Nov-2020) In the current time period, there are numerous individuals who are hooked..


StorialTechঅবনির চোখে জল
অবনির চোখে জল

দুঃখ আর হতাশা একটা ছেলের জন্য যতটুকু সহনীয় মেয়েদের জন্য নাকি তা আরও বেশি সহনীয়।কিন্তু,এই কষ্ট..


প্রতিশোধ
প্রতিশোধ

ঘুম ভাঙতেই রজত টের পেল ট্রেনটা স্টেশনে থেমেছে। বাইরে হকারদের চিঙ্কার, ব্যস্ত লোকজনের মালপত্র নিয়ে এদিক..