প্রেমের ফাঁদে (পূর্ণদৈর্ঘ্য শেষ অংশ)

-এই যে শুনুন।(আমি)
-জ্বি ম্যাডাম বলুন।(নাহিদ)
-এই নিন আপনার ছাতার টাকা।
-মানে!!
-মানে,আপনার সব ঋণ পরিশোধ।
-তার মানে কি, আমাদের মধ্যে আর কখনও কথোপকথন হবে না?
-
-এটাইতো আপনি চেয়েছিলেন।আমার সাথে কথা বললে দেখা করলেতো আপনার সময় খারাপ যায়।তাই আজ থেকে আপনিও মুক্ত, আমিও মুক্ত।আসি..
কথাগুলো বলার সময় মনে হচ্ছিলো যেন গলা বয়ে যাচ্ছে।কিছু একটা হারিয়ে যাচ্ছে আমার।এই ক'দিনে নিজেকে সম্পূর্ন পরিবর্তিত মনে হচ্ছে।নিজের মধ্যে শুধু একটা ভাবনাই কাজ করছে, আমি কি নাহিদকে ভালোবেসে ফেলেছি?অবশ্য ভাল লাগা যে কাজ করছে তা বুঝতে পেরেছিলাম দুই মাস আগের এক ঘটনায়।সেদিন চিত্রকলা একাডেমিতে একটা ছবি আকা কম্পিটিশন ছিল।ছবি আকায় নিজেকে অনেক পারদর্শী ভেবে মনে করেছিলাম সব কিছু কমপ্লিট করে সন্ধ্যার আগে বাসায় পৌছতে পারব।তাই,বাবা আর আমার বড় ভাইয়াকে কিছু বলিনি।কিন্তু যানজন নিয়ে আকা ছবি বলে ছবি আকা শেষ করতে সন্ধ্যা ৭টা হয়ে যায়।এর আগে কখনও আমি এতো লেট করিনি।ভাইয়া অথবা বাবা কেউ সেই মূহুর্তে এসে আমাকে নিয়ে যাওয়াও সম্ভব ছিলো না।তাই বাধ্য হয়ে একাই যেতে হবে।খুব ভয় করছিল,নার্ভাসও লাগছিল।এমন সময় নাহিদও বের হচ্ছিল।আমার দিকে এগিয়ে এসে..
-হ্যালো ম্যাম,কেমন আছেন?(নাহিদ)
-আমি কেমন আছি তা আপনাকে বলব কেনো?(আমি)
-সে কি!কেমন আছেন তা জিজ্ঞেস করে কি মহাভারত অশুদ্ধ করে ফেললাম নাকি!হাজার হলেও আমাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে না!
-কিসের সম্পর্ক!!
-দেনা-পাওনার সম্পর্ক।
-উফ..(হতাশ ভঙ্গিতে)
-এখানে কি করছেন?
-রিকসা খুজছি,বাসায় যাবো।
-আমি আজকে আমার বাবার বাইক নিয়ে এসেছি।আমার ছবি আকতে একটু সময় লাগে।জানতাম রাত হবে আমার তাই।আমাদের বাসাতো একই দিকে,চলুন আরও একবার আপনাকে সাহায্য করি।
-বাইক নিয়ে এসেছেন বলে কি মনে করছেন সব মেয়েরা আপনার পিছনে এসে বসবে!
-বেশি লাফাবেন না।সামনে কিন্তু একটা ব্রিজ আছে।যা দিনের বেলাও ফাকা থাকে, আর এখনতো রাত।আমি আসছি বাই...
-দাড়ান!
(বাইকে উঠে বসে)যান।
১৫ মিনিটে আমার জায়গা মতো এসে গেছি।মানতে হবে, হালকা একটু ব্রেকও করেনি কোথাও। বাইক থেকে নেমেই আমি হাটা শুরু করলাম।
-হ্যালো,,,আমার ধন্যবাদ-টা।
-এত কেনো ভালো লাগে আপনাদের মেয়েদের কাছ থেকে ধন্যবাদ শুনতে।
এটাও জমা রাখেন পরবর্তীতে শোধ দিব।
-ঠিক আছে।এটাও আপনাকে অনেক ভোগাবে!
-হুম,,,(ভেংচি দিয়ে)
সেই প্রথম অনুভব।আর যা-ই হোক এই ছেলেকে বিশ্বাস করা যায়।আর এই বিশ্বাসের উপর-ইতো ভালোবাসা দাড়িয়ে থাকে।কিন্তু এখন আর কিছু করার নেই।হাহ..
,
---পরেরদিন---
,
-হ্যালো,কেমন আছেন?(নাহিদ)
-ভালো।কি চান এখানে?(আমি)
-প্রতিদান।
-প্রতিদান!!কিসের প্রতিদান?
-আপনার কাছে আমার অনেকগুলো ধন্যবাদ পাওনা আছে।অনেকগুলো সাহায্যের প্রতিদান।সে প্রাপ্প্য ধন্যবাদ।
-আপনি কি আমার বান্ধবীদের সাথে চ্যালেঞ্জ করে এসেছেন?যে আমার কাছ থেকে ধন্যবাদ নিয়ে যাবেন।
-কেনো তাদের সাথে চ্যালেঞ্জ করে আসলে কি হতো?মনে আছে,আমি তখন আপনাকে বলেছিলাম,এই ধন্যবাদ আপনাকে অনেক ভোগাবে। আর আমি জানতে পেরেছি আপনি কারো সাহায্যের প্রতিদান ধন্যবাদ দিয়ে দেন না।তাই, আমি আপনার জন্য একটা এক্সচেঞ্জ অফার নিয়ে এসেছি।হয় অফারটি গ্রহন করুন নয়তো ধন্যবাদ।
-হায়.. খোদা..কি অফার?
-আপনি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিন।
-ইমপসিবল,আপনাকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেব!নো আমি পারব না।(ইগো দেখাতে গিয়ে বেশি বলে ফেললাম নাকি)
-তাহলে আর কি করা।ধন্যবাদ দিয়ে দিন আর আমি সবাইকে ঢোল পিটিয়ে গিয়ে বলি ঈশিতা ম্যাডাম আমাকে ধন্যবাদ দিয়েছেনন..(জোরে শব্দ করে)
-আরে,আসতে আসতে।(চিন্তায় পরে গেলাম)আচ্চা ঠিক আছে,আমাকে একদিন সময়দিন।আমি কালকে আপনাকে জানাব।
-সময় নিয়ে লাভ নেই।কারন চয়েস আপনার কাছে দুইটাই।
-একটু মেন্টালি প্রিপারেশন লাগবে না!
আমারতো ভাবতেই অবাক লাগছে যে,আপনার সাথে আমার বন্ধুত্ব হতে যাচ্ছে।এই চুক্তির জন্যতো কলেজ একদিনের জাতীয় ছুটি দেয়ার প্রয়োজন ছিলো।
-সো সুইট..আমি আসছি।কালকে দেখা হবে।
ভালোও লাগছে আবার খারাপও লাগছে।আমি আবার ওর কাছে হেরে গেলাম!!কেনো যে এত ইগো আর নিজস্ব নিয়ম দেখাতে গেলাম কলেজে।আজ সে দাবি খাটিয়ে আমাকে অন্যদের মধ্যে নিয়ে গেল।
---পরবর্তী দিন---
-এইযে,এখানে একা একা বসে কি করছেন?(নাহিদ)
-আমি কি করছি তা আপনাকে বলতে হবে কেন?
-কারন আপনি যে আমার সাথে বন্ধুত্ব পেতেছেন তার কোনো বৈশিষ্টতো দেখতে পাচ্চি না আপনার মধ্যে।
-তা,এখন কি করতে হবে?
-গান গাইতে হবে চলুন।
-নো,আমি গান গাইতে পারিনা।
-তা আমরা কি লাখ লাখ টাকার স্টেজ প্রোগ্রাম ফেলে রেখে এখানে এসেছি নাকি!চলো বলছি..
আর কিছু বলার নেই।কারন,ও আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।আমি শুধু পেছন থেকে ওর দিকে তাকিয়েই আছি।জেদের বসে এতদিন মনে হচ্ছে আমি ভূল করে এসেছি।গান শুরু হয়ে গেছে।অসাধারন তার কন্ঠ।একদম আমার মনের মতো।আমার অনেক স্বপ্ন,যখন কোনো একদিন আমি আর আমার মনের মানুষ ছাদে অথবা বেলকনিতে বসে থাকব,তখন সে গিটারের শব্দে আমাকে গান শুনাবে।আর আমি চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে মুগ্ধ হয়ে সেই গান শুনব।এইসব যখন ভাবছি তখন আচমকা কে যেন ডাক দিয়ে উঠল..
-ও ম্যাডাম কি হয়েছে আপনার।(নাহিদ)
-কিছুনা!
-নিন এবার আপনার টার্ন।গান গাইতে হবে।
সবার জোরাজোরিতে একটা গান গাইলাম।
-অনেক হয়েছে গান।চিত্রকলা একাডেমির সময় হয়ে গেছে। চলো সবাই।(সালমা)
-নাহিদ, আজকে কি ছবি আকবে?(সাফা)
-আজকে একটা মানুষের ছবি আকব।মানে আকার চেষ্টা করব।
যেতে ইচ্ছে করছেনা। তবুও তাদের সাথে যেতে হচ্ছে।কারন,আমি চেষ্টা করেও আগের ঈশিতারূপে থাকতে পারছিনা।নাহিদের ছবিগুলো কিন্তু আসলেই অনেক সুন্দর।একজন চিত্রশিল্পী কিভাবে তার কল্পনার সব রূপ চিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলে তা নাহিদের ছবিতে বোঝা যায়।প্রকৃতির সৌন্দর্য যেন কথা বলে তার চিত্রে।এরকম অনেক ছবি অবশ্য আমি ও একেছি।হয়তবা তার মতোই,অথবা তার থেকে একটু খারাপ,অথবা একটু ভাল।আমি অবশ্য নতুন কোনো ধাচের ছবি আকার চেষ্টা করছি।নাহিদ আজ একজন মানুষের ছবি আকবে।এব্যাপারে আমি অনেক এগিয়ে আছি।কারন শহরের যানজট নিয়ে আকা আমার অনেক ছবি স্যার-ম্যাডামদের কাছ থেকে অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছে।সেখানে অনেক মানুষের ছবি আকতে হয়।গানের আড্ডা ছবি আকা,ক্লাস এভাবেই এক সপ্তাহের মতো কেটে যায়।আজ সবাই আমার দিকে অদ্ভুদভাবে তাকিয়ে আছে।কারন আমি ক্লাস টাইম শুরুর আগে ক্লাসে চলে এসেছি।নিজের কাছে নিজেকেই খুব বোরিং মনে হয় আজ।নাহিদ এখন অলওয়েজ লেট করে ক্লাসে।আর আমি এক নজর দেখার জন্য এখানে ওখানে পাগলের মতো ছুটোছুটি করি। কি করব এই মনকে যে মানাতে পারি না।যতই বারন করি মনকে ততই যেন বেশি টান অনুভব হয়।আমি তাকে ভালবাসার কথা বললেও মনে হয় না কোনো কাজ কাজ হবে। কারন,সে আমার সাথে অন্য আট দশজনের মতোই আচরন করে।
আর এভাবে ভালবাসার কথা বলে নিজের ব্যক্তিত্ব নষ্ট করতে মন সায় দেয়না।তার উপর যদি সে মুখের উপর না করে দেয়??
নাহিদ এসেছে ক্লাসে।আমার বাম দিকের একটু পেছনের দিকে সে বসেছে।অনেকক্ষন হয়ে গেল।একবার পেছনে তাকাব নাকি!মনে হচ্ছে সেও আমার দিকে তাকিয়েছে।এই তাকিয়েছে,(পেছন ঘুরে)তাকায় নি!হাহ...আমি পাগল হয়ে গেছি।
-কি ব্যাপার,তোমাকে আজ বাইরে দেখতে পেলাম না!ক্লাস টাইমে ক্লাসে!শরীর খারাপ নাকি?(নাহিদ)
-না,শরীর খারাপ হতে যাবে কেন!
-তাহলে কি হয়েছে?
-কিছু না।
-না বললে নাই।আমার কাজ আছে আমি আসি।
,
-কিরে, ঈশিতা কি হয়েছে তোর?(উর্মি)
-কিছুনা,শরীরটা একটু দূর্বল লাগছে।
-কেনো? কলেজে তো এই সময় তুই সবচাইতে স্ট্রং থাকিস!
-আজকে খাবার নিয়ে আসি নি, ভূলে গিয়েছিলাম।
-ওয়াও,তুই ভূলে গেছিস খাবার আনতে!
-কেনো, আমি কি মানুষ না নাকি?আমার কি ভূল হতে পারে না!
-না, তা হতে পারে। কিন্তু এই প্রথম দেখলামতো তোর ভুল হতে।তাই আমি শকড।
-যা এখান থেকে ভাগ!তোর সাথে শেয়ার করাটাই আমার ভূল হয়েছে।
-আহা রাগ করছিস কেনো?আচ্চা টাকা দে। নাহিদকে দিয়ে কিছু আনিয়ে নেই।
-না, আমার লাগবে না কিছু।
সবাই কিছু হলেই শুধু নাহিদ নাহিদ করে।আর এই ছেলেটাও যে কি? মেয়েদের সাথে আঠার মতো লেগে থাকে।
-এইযে,কি সমস্যা তোমার?(নাহিদ)
-আমার আবার কি সমস্যা!(আমি)
-তাহলে নিজেকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছ কেনো?
-বুঝতে পেরেছি।উর্মি শয়তানটা তোমাকে সব বলে দিয়েছে তাই না!
-হ্যা,বলে দিয়েছে। আর বলে দিয়ে সে বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়েছে।যেখানে তুমি বন্ধুত্বের কোনো মূল্যই দিতে জানো না।বন্ধুত্ব কি সেটাই জানো না।
-হয়েছে হয়েছে।আমাকে আর বন্ধুত্বের জ্ঞান দিতে হবে না।আমি কি যেচে তোমার সাথে বন্ধুত্ব করতে গিয়েছিলাম।আমি আর আট দশ জনের মতো তোমার বন্ধু হয়ে থাকতে পারি না।আমি চেষ্টা করেও তাদের মতো হতে পারি না।
-তাহলে তুমি কার মতো হতে চাও?
-জানিনা,,
-কোথায় যাচ্ছ?দাড়াও,দাড়াও বলছি।
-কেনো?
-এই খাবারগুলো নিয়ে যাও।প্লিজ..
না নিয়ে আর পারলাম না।ওর সবকিছুই ভাল লাগে। ভাল লাগেনা শুধু আমার বান্ধবীদের সাথে ওর মেশা।আর আমাকে
এভোয়েড করা।ও আমাকে ঐরকম নজরে কখনো দেখেই না।কিন্তু সে যথেষ্ট কেয়ারি।বন্ধুর মতো।এর বেশি নয়।
গল্পের মনে হয় এভাবেই শেষ।আজ কলেজে আমাদের বিদায়ি অনু্ষ্ঠান।অনলাইনেও রেজাল্ট পাওয়া যায়।কিন্তু,অফিসিয়ালিভাবে রেজাল্ট কলেজ থেকে জানিয়ে বিদায়ি অনুষ্ঠান করা হয় প্রতি বছর।আর এই অনুষ্ঠানই মনে হয় নাহিদের সাথে দেখা করার শেষ দিন।আজও তাকে ঘিরে দাড়িয়ে আছে আমার সকল বান্ধবীরা।তাই মনে হয় আর কথা বলাও হবে না।
নাহিদ এদিকেই এগিয়ে আসছে।সাথে আমার বান্ধবীরাও।
-কিরে, তুইতো ফাটিয়ে দিলি।গোল্ডেন A+।নাহিদও পেয়েছে গোল্ডেন।(সালমা)
-হুম...(অনর্থক হাসি দিয়ে আমি)
-চলো, চিত্রকলা একাডেমি থেকে আসি।আজ শেষবারের মতো একটা করে ছবি একে নিব সবাই।আর সেটি হবে স্পেশাল।ওকে..(উর্মি)
সবাই সায় দিল।আমার আজ যেতেই হবে।কারন,আমি আজ সেই স্পেশাল ছবিটিই আকব।তবে কোনো প্রশংসা বা প্রতিযোগিতার জন্য নয়।নিজের জন্য।সেই স্পেশাল মানুষের ছবি।
নিজের মনের লুকানো সকল রংয়ের বহিঃপ্রকাশ এই ছবি আকা শেষ হলো।মনে হচ্ছে যেন এক্ষুনি ছবির দুনিয়া থেকে বেরিয়ে আসবে।নাহিদও আকছে তার স্পেশাল ছবি।ছবি আকা শেষ করে সবাই বেরিয়ে পরেছে। আমি আমার ছবি একটা হলুদ রাবার দিয়ে গুছিয়ে নিলাম।নাহিদ দেখছি এখনও ছবি আকছে।আমি তার দিকে এগিয়ে যেতেই আমাকে থামার ইঙ্গিত দিলো।তার ছবির বিপরীতদিকে দাড়িয়ে আছি আমি।
-কি ব্যাপার এত সময় নিচ্ছো।নিশ্চয়ই খুব স্পেশাল ছবি।(আমি)
-হুমম..অনেক স্পেশাল।(নাহিদ)
-হুম..সময় লাগবে তোমার?
-আর সামান্য,কিন্তু কেনো?
-না, আজইতো শেষ।তাই ভাবছিলাম একসাথে যাব।যদি তোমার কোনো সমস্যা না হয়।
-কোনো সমস্যা নেই।আমাকে একটু সময় দাও।
-ওকে...আমি বারান্দার সিলিংয়ে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।
-আরে না,তুমি এখানে একটু দাড়াও!তাহলে আমার ছবিটা আকতে সুবিধা হবে।
-মানে??
-মানে,তোমার জানতে হবে না।তুমি ঐ টুলটা নিয়ে এসে এখানেই অপেক্ষা করো।
অদ্ভুদ লাগছে।অদ্ভূদ তার ভ্রু কুচকানো আর সুক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গিতে বুঝতে বাকি নেই ছবিটি তার জন্য অনেক স্পেশাল।
-নাও,আকা শেষ।কিন্তু আমিতো আজ সাইকেল নিয়ে এসেছি!(নাহিদ)
-ও..আচ্ছা ঠিক আছে কোনো সমস্যা নেই।তুমি যাও।ভালো থেকো!(অনেক কষ্টে কথাটা বলা)
-কেনো,বাইকের বদলে সাইকেল বলে কি আমার সাথে যেতে ইচ্ছে করছে না।
-না, না।আমি মনে করেছি তোমার সমস্যা হবে।
-আমি ডাবল খুব ভালো চালাতে পারি।নাও,আমার ছবিটা রাখো তোমার কাছে।খুলবে না কিন্তু।ছবি হাতে রেখে সাইকেল চালাতে পারব না।
-দাও..
এটা খুবই মুসকিল।তার ছবিও হলুদ রাবার দিয়ে গোছানো।সমস্যা নেই আমার ছবি ডানহাতে আর তার ছবি বা'হাতে নিলাম।
-নাহিদ, তুমি কি আমার সাথে এক জায়গায় যাবে?(আমি)
-উমম,,আজকেতো রেজাল্ট পেলাম।তাড়াতাড়ি গিয়ে মাকে খবরটা জানাতে হবে।কিন্তু আমি তোমার সাথে যাবো।(নাহিদ)
-অসুবিধা নেই।তোমার তাড়া থাকলে থাক। যেতে হবে না।
-আমি কি বলেছি যেতে পারব না!কোথায় নিয়ে যাবে বলো?
-আমাদের নদীর ধারে একটা অসম্ভব সুন্দর একটা পার্ক আছে।আমার যখন মন খারাপ থাকে তখন আমি সেখানে গিয়ে বসে থাকি।
-কিন্তু আজতো তোমার মন ভালো।এত ভালো রেজাল্ট করেছো!
-ভালো লাগাটা সম্পূর্ন মনস্তাত্ত্বিক স্বাধীনতার ব্যাপার।এই ভালো রেজাল্ট জীবনের একটি ছোট অংশ যা জীবন থেকে বাদ পরে গেলেও কোনো সমস্যা নেই।কিন্তু ভাল লাগা জীবনের একটি অধ্যায় যা না পড়লে জীবনের কোনো মানেই থাকে না।
-তুমি যে এইচ.এস.সি পাশ করে কবি হয়ে গেছ তা আমি ভাবতেই পারিনি।
-হুম...(সেই অনর্থক হাসি)
নদীর ধারে একটি ব্রেঞ্চে বসে আছি দুজন।
-তারপর,এখন কি করবে?(আমি)
-কি আর করব!কয়েকদিন ঘুড়ব-ফিরব তারপর ভালো একটা ইউনিভার্সিটিতে চান্স নিব।
তুমি কি করবে?
-জানিনা।(ওর মধ্যে ভালবাসা নিয়ে কোনো অনুভূতিই নেই)
---
---
আধ ঘন্টা কেটে গেল এভাবেই।হঠাৎ নাহিদের মোবাইল ফোনটা বেজে উঠল।তার মা টেনশন করে ফোন দিয়েছেন।
-কিরে রেজাল্টতো শুনলাম সেই কবে দিয়েছে।বাসায় ফিরবি কখন?
-এইতো মা ফেরার পথে।
এই ওঠো ওঠো আজকে আর না।
নাহিদের এই কথা শুনার পর মনে হচ্ছে যেন সমস্ত পৃথিবী উলট পালট হয়ে যাচ্ছে।অনেক কষ্টে নিজেকে সামলিয়ে সাইকেলে ওঠলাম।অনেকটা পথ চলে এসেছি।হঠাৎ করেই
-আহহ..
(নাহিদ সাইকেলটা ফেলে দিল।ছবিগুলো কোথায়।হাত থেকে পরে গেছে।)
-সরি্য,আমি একটু অন্য মনস্ক হয়ে গিয়েছিলাম।(নাহিদ)
-ইটস ওকে।আমার ছবিটা দাও!
-আমারটাও রাখো।আর ওঠো সাইকেলে।
-না,ভাগ্যই হোচট দিয়ে এখানে ফেলে দিয়েছে আমাকে।
-মানে?
-কিছুনা,আর যেতে পারব না সামনে। পরিচিত যে কেউ দেখে ফেলতে পারে।আর একটা কথা!নিজেকে কখনও পরিবর্তন করবে না।যেভাবে আছ সেভাবেই থাকবে সব সময়।আসি..
,
আমি আর পারলাম না।কিছুদূর এগিয়ে এসেই বসে পরলাম মাটিতে।মাটির দিকে তাকিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে কাদলে মনে হয় সেই কান্না সার্থক হয়।কারন,মাটি তার সব কথা, অভিমান নিজের বুকে চাপা রেখে সব ব্যাথা নিরবে সহ্য করে যায়।আমি যেন আজ মাটিরই প্রতিচ্ছবি।
বাড়িতে আজ সবাই অনেক খুশি।শুধু জানালার গ্রিলটায় মাথা ঠেকিয়ে দাড়িয়ে আছি আমি।যে চোখকে বলেছিলাম তোমাকে কখনও পানি স্পর্শ করতে দেব না তোমার ঠান্ডা লাগবে,সেই দুই চোখ আজ জলের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে।ওর দেয়া কিছুই নেই আমার কাছে।শুধুতার স্মৃতি আর নিজের আকা তার এই ছবি ছাড়া।এই ছবিই এখন আমার সব।
ছবি বের করে..
,
হা......(আশ্চর্য হয়ে)আরে এটা কি??আমিতো নাহিদের ছবি একেছিলাম,তাহলে এখানে আমার ছবি আসল কি করে!!আবার ছবির নিচে ছোট করে কি জানি লেখা।
,
""She is my Special""
,
সিগনেচার দেয়া 'নাহিদ'।(মূহুর্তের মধ্যে সমস্ত শরীর বেয়ে একধরনের তড়িৎ প্রবাহ শুরু।সমস্ত শরীর আমার কাপতে শুরু করে।এবং আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি)
সকালে নিজেকে নিজের বেডে আবিষ্কার করি।বাড়ির সবাই আমার দিকে চিন্তিত অবস্থায় তাকিয়ে আছে।
-কয়টা বাজে(আমি)
-এইতো সাড়ে ছয়টা হবে।(মা)
-তোমরা সবাই এখানে কেন?
-তুই রাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেললি।টেনশনে আমরাতো সারারাত ঘুমাতেই পারলাম না।(বড় ভাইয়া)
-ওও..আমার কিছু হয়নি।অনেক দেরি হয়ে গেছে।আমাকে কলেজে যেতে হবে।
-এত সকালে আবার কিসের ক্লাস!এই দাড়া,দাড়া।কিছু খেয়ে যাবি না!(মা)
কান্না কিছুতেই আটকে রাখতে পারছি না।তবে আজকের কান্না ভালবাসার। অদ্ভূদ এক সুখ আছে এই কান্নায়।আমার মন বলছে,নাহিদ নদীর ধারে আমার পছন্দের সেই পার্কটায় আসবে।তাই আমি পার্কটাতেই এসেছি, এসে আমি আবারও অবাক।নাহিদ আমার আকা ছবি দুইহাতে ধরে সামনে দাড়িয়ে আছে।
-এইযে ম্যাডাম,এত দেরি হলো কেনো?(নাহিদ)
-দেরি কোথায়।সকাল সাতটা বাজে এখনও।
-কিন্তু আমিতো গতকাল থেকে এখানে তোমার জন্য অপক্ষা করছি।
-আমি রাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম।
-জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলে!!শরীর খারাপ করে নি তো তোমার?
-হ্যা করেছে,তাইতো ডাক্তারের কাছে এসেছি।এত সকালে..
-কিন্তু,ঔষধতো সব আমার বুকের ভেতরে।
-তাহলে সেই কোম্পানি আমার নামে করে দাও!যেন আর কোনো অসুখ না হয়।
-দিলাম।
-এত ভালোবাসো আমায় আগে বলনি কেনো?
-আগে বললে কি হত?তুমি আমাকে কি সিরিয়াসলি নিতে তখন।তাই সবকিছু একটা নিয়মমাফিক করে গেছি শুধু।
-মানে??
-মানে প্রথমদিন সেই ব্রীজে দেখা।সেখানেই তোমাকে ভালোলাগে।যাকে বলে চলতি ফিরতি ভালবাসা।তুমি যখন আমাকে সামনে দিয়ে দিলে তখন আমি ইচ্ছে করেই গতি কমিয়ে নেই।যেন বৃষ্টি আসে,আর তুমি আমার কাছে আসো!
-তারপর?
-প্রথমদিন তুমি ক্লাসে আসার আগেই আমি তোমার সকল বায়োডাটা সংগ্রহ করে নেই।যেহেতু তুমি ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল।যখন দেখি তুমিই সে,তখনই ঠিক করে নেই তুমিই হবে আমার সে।তারপর তোমার বান্ধবীদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেশা,তোমাকে এভোয়েড করা,সব কিছুতে প্রতিযোগিতা করা, ছাতার জন্য বারবার তোমাকে ডিস্টার্ব করা এসবই ছিলো পরিকল্পনামতো।কিন্তু চিন্তায় পরে যাই যখন তুমি ছাতার টাকা ফিরিয়ে দাও তখন।কথাবলার পথটাও বন্ধ হয়ে যায়।তখন অনেক চিন্তা করে বন্ধুত্বের নতুন প্লান করি।সর্বশেষ গতকালের বিদায়ি অনুষ্ঠানে তোমার সকল বান্ধবীদের আমিই বুদ্ধি দিয়েছিলাম স্পেশাল ছবি আকার জন্য।এবং ছবি আকার শেষ মূহুর্তে যখন দেখলাম তুমি তোমার ছবি হলুদ রাবার দিয়ে গুছিয়েছ তখন আমিও আমার ছবি হলুদ রাবার দিয়ে গুছিয়েছিলাম।আর একটা চিহ্ন রেখেছিলাম আমার ছবিতে, যাতে আমার ছবি তোমাকে দিয়ে আমার মনের কথা তোমাকে জানাতে পারি।
-তার মানে, আমি তোমার প্রেমের ফাঁদে ধরা দিয়েছি।
-হুম...
-তুমি এত খারাপ!যাও, তোমার সাথে আর কোনো কথা নেই।তোমার প্রতি আমার ভালবাসা কমে গেছে।
-তাহলে দশ কদম দূরে গিয়ে দেখো। আমাকে আর খুজে পাও কিনা!
-দশ কদম কি?আমিতো বাসায়ই চলে যাচ্ছি।
-১,২,৩,৪,৫,৬,৭,৮,৯.....
দৌড়ে গিয়ে শক্ত করে জরিয়ে ধরে...
-আমি পারব না।পারব না আমি তোমাকে ছেড়ে এক সেন্টিমিটারও দূরে থাকতে।
-তা আমি কি থাকতে পারব নাকি!
-আমি কি বলেছি নাকি তুমি দূ্রে থাকতে পারবে।আজব তো!
-না তোমার কথায়তো এটাই বোঝা যায়।শুধু তুমি একাই ভালোবাসো!
-এত বুঝ কেনো তুমি!
-না আসলে,,,
-চুপ,আর স্টোরি লম্বা করলে তোমার খবর আছে!চলো...(ধমক দিয়ে)
,
হ্যালো, আমি নাহিদ।আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।যেন আমাদের পরবর্তী স্টোরি অনেক সুখকর হয়।
,
_[বি:দ্র: ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল]

0 Comments Here
Authentication required

You must log in to post a comment.

Log in
Related Post
তোমার কখনো..
তোমার কখনো ইচ্ছে হয়না আমায় চুমু খেতে?

''আচ্ছা একদিন ভুল করে তুমি আমায় চুমু দিতে পারোনা?' তার মুখে আচমকা এমন কথা শুনে অনেকটা..


মজা করার..
মজা করার গল্প

ফেসবুক ব্রাউজ করছিলাম রাত প্রায় ২ টা বাজে।এমন সময় একজন মেসেজে নক করল...
-এই আপনার..


সুইসাইড নোট
সুইসাইড নোট

সাব্বির  দ্বাদশ শ্রেনিতে পড়ে,সে নম্র,ভদ্র এবং সুদর্শন ছেলে।পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ায় তার মা-বাবা কখনো তার কোনো..