বউ + যৌতুক

বউ + যৌতুক

আজ আমার সবচাইতে খুশির দিন।যেন মনে হচ্ছে আমাদের সেই স্কুল লাইফের আবুল স্যারের বাই সাইকেলের টায়ার পাঞ্চার করে এসেছি।এত খুশি হওয়ার কারন হলো,আজ চার বছর রিলেশনের পর আমার আর নিশির বিয়ের পাকা কথা দেয়ার জন্য বাবা-মা যাচ্ছেন নিশিদের বাড়িতে সাথে আমিও যাচ্ছি।ভীষন লজ্জাও করছে কিন্তু ভালবাসার শুভ পরিনতি হতে যাচ্ছে বলে লজ্জার মাথা খেয়ে নিয়েছি।মা-বাবা গ্রামে থাকেন,আমার বিয়ের জন্য শহরে এসেছেন।আর আমি একটা মাল্টি-ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরী করি।
-কিরে,,নাহিদ।ছেলেদের সাজতে এত সময় লাগে নাকি!যেন আমরা বউ দেখতে যাচ্ছি না বর দেখাতে যাচ্ছি।আমরা মহিলারা সেজেগুজে এতক্ষন ধরে বসে আছি আর তোর দুই ঘন্টা সময় লাগে।বেরিয়ে আয় বলছি তাড়াতাড়ি রুম থেকে। (মা)
-তাড়াতাড়ি আসো ভাইয়া,নাহলে তোমাকে ছাড়াই আমরা চলে যাব।আর সেখানে গিয়ে বলব ছেলে টয়লেটে বিজি।(ছোট বোন)
-আরে,, কি বলে!দাড়াও দাড়াও আসছি-তো।
ধ্যাত!ভালো করে সাজতেও দিলোনা।ছেলেদের কি সাজুগুজোর প্রয়োজন নাই নাকি!থাক,আগে ভাগি।নাহলে আমাকে রেখেই চলে যাবে।পরিচয় পর্বটা আর চলতে চলতেই হয়ে যাবে।
--
এই মূহুর্তে নিশি আমাদেরকে শরবত বিতরন করছে।এছাড়াও আরও বিভিন্ন আপ্যায়নে ব্যাস্ত তার পরিবারের অনেকেই।আমি নীরব মূর্তির মতো বসে আছি মা-বাবার মধ্যখানে।আর বুকের ডানদিকের হার্টের মধ্যখানে 320 kbps রেঞ্জের বিট অনুভব করছি।কারন আশেপাশের সকল গার্ডিয়ানদের দেখে মনে হচ্ছে টাইম বোম-এর মতো।কে,কখন,কিভাবে কোন টপিক নিয়ে ফাটবে আর সবকিছু এখানেই মাটি করে দেবে সেই টেনশনই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।এদিকে নিশি চোখ মারতে মারতে চোখের সাটার মনে হয় ঢিলা করে ফেলেছে সেদিকে কোনো খেয়াল করতে পারিনি।হঠাৎ খেয়াল করতেই দেখি ঘোমটা করা অবস্থায় হিংস্র বাঘিনীর মতো আমার দিকে তাকিয়ে আছে।মনে হচ্ছে যেন এখনি আস্ত গিলে খাবে।পরক্ষনেই চোখের সাটার অটো পরে গেল তার।আমি একটু লজ্জাত্মক হাসি দেয়ার চেষ্টা করলাম।তা শুধু সে-ই বুঝেছে।সবকিছু ঠিকঠাক মতো শেষ হয়ে যাচ্ছিলো এমন সময় শুভ কাজে বাঁ হাত ঢুকিয়ে দিলো চাচাজান।
-তা সবইতো ঠিক আছে।তবে,আমাদের ছেলে কিন্তু লাখে একটা।জিনিয়াস একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার,ক'দিন পরে লন্ডন, আমেরিকা ঘুরবে বিভিন্ন কাজে।তা ছেলেকে উপহার কিছু দেবেন না।(চাচা)
এই যাহ..হা করে তাকিয়ে রইলাম আমি।মা বাবাও কিছু বলছেনা। মনে হচ্ছে যেন আবুল স্যারের বাই সাইকেলের টায়ার যেভাবে আমি পাঞ্চার করতাম চাচাজানও ঠিক সেইভাবে আমার প্রেস্টিজের টায়ার পাঞ্চার করে দিল।কোনো শিক্ষিত সমাজে কেউ এসব বলে নাকি।এই লোকটা একটু বেশিই লোভি।শ্বশুর মশাইও দেখি কথা মুখে নিয়ে বসে আছেন!!
-আরে, আমরা কি না করেছি নাকি!আমরাতো দেয়ার জন্য প্রস্তুত।শুধু আপনারা কি মনে করেন না করেন তাই ভেবে কিছু বলছি না। সমাজের সবাইতো আজকাল এই বিষয়ের ঘোর বিরোধী।তবে আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না।আমি এ বিষয়ে কোনো কার্পন্য করবো না।জাপান,আমেরিকা,চীন থেকে আসবাব পত্র আনিয়ে দেব আমার একমাত্র মেয়ের বিয়েতে।আমার একমাত্র মেয়ে,সেও কিন্তু লাখে একটা মনে রাখবেন।(নিশির বাবা)
-হ্যা, তা কি আর বলতে হয় নাকি!আমরা সবই বুঝতে পারি।(চাচাজান)
--
উফ..অবশেষে বিয়ের কাজ কমপ্লিট।কিন্তু আমি যত শর্টকার্টে বলে ফেললাম কমপ্লিট অতটা শর্টকার্ট ছিলোনা।বিবাহ এক লম্বা প্রক্রিয়া।সেই বর্ণনা দেয়ার মতো সময় এখন হাতে নাই।কারন বাসর ঘরে আমার বউ অপেক্ষা করছে।ইশ..ভাবতেই ভাল লাগে।আমি ধীরে ধীরে নায়ক আলমগীর আর জসিমের মতো বাসর ঘরে গিয়ে ঢুকলাম।আস্তে করে দরজা লক করে দিলাম।আস্তে আস্তে এগিয়ে বিছানায় বসতেই..

-কি ব্যাপার!এভাবে এসে বসলে যে!(বউ)
-তাহলে কিভাবে এসে বসবো!!(আমি)
-আজকে তোমার প্রথম বাসর রাত,এক্সাইটেডে তুমি কৃশ এর মতো লাফ দিয়ে বিছানায় বসা উচিৎ ছিলো আর তুমি কিনা বিড়ালের মতো চুপিচুপি এসে বসে পরলে!তোমার ভেতরে কোনো এক্সাইটমেন্ট-ই নেই।
-কি বলছ তুমি?এক্সাইটেডতো অবশ্যই আছি।তাই বলে লাফ দিয়ে বিছানায় উঠে বসতে হবে কেন!আর শুনো সোনা,আমি মনে করেছিলাম খাট ভেঙে যেতে পারে। তাই চাইনি আমাদের এই বহু কাঙ্খিত বাসর রাতে কোনো ঝামেলা তৈরী হোক।
-আশ্চর্য!ভেঙে যাবে কেন?আমার বাবা থাইল্যান্ডের স্পেশাল থাই দিয়ে বানানো এই খাট অর্ডার করেছে আমার বিয়েতে তোমাকে যৌতুক দেয়ার জন্য।যাতে ইচ্ছে মতো লাফালাফি করা যায়।তোমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে লাফালাফি করলেও এটা ভাংবে না।বুঝেছ..
-কি বললে..
-এই, কোথায় যাচ্ছো?
-আমার মুড চলে গেছে বাসর রাতের।
রাগ করে ব্যাল কনিতে গেলাম।পরক্ষনেই আবার রুমে এসে..
-শ্বশুর আব্বাকে বলবে, কালই যেন এসব জিনিসপত্র এসে নিয়ে যান।
-আমি পারবো না!আমার বাবাকে এসব আবার ফিরিয়ে দিয়ে আমি অপমান করতে পারব না।
-কি, পারবেনা!আমি এখনই সব বাইরে বের করে দেব।
বাসর রাত আজ।তাই আগে খাট বাইরে নিতে হবে।খাটের পায়া ধরে অনেক টানাটানি করলাম কিন্তু একটু নড়ানোও গেল না।
-ঠিক আছে।চাচাজাআআন..আব্বাজাআআন..আপনারা কোথায়?
-কি হয়েছে?(চাচাজান)
-আমার কি কোনো প্রেস্টিজ নেই?
-অবশ্যই আছে!তুই আমাদের বংশের ছেলে।
-তাহলে কালই বিয়েতে পাওয়া সব উপহার ফিরিয়ে দিবেন।
-এটাতো হবে না।এটা আমাদের বংশের খানদানি রেওয়াজ।তোমার মাও বাপের বাড়ি থেকে অনেক কিছু এনেছিলেন।
-কিন্তু চাচা...
-কোনো কথা নয়।যাও গিয়ে শুয়ে পরো।
.
নব বধূর সাজে নিশিকে দেখে মনে হচ্ছে ডানাকাটা পরী বসে আছে বিছানায়।কিন্তু ঐ বিছানায় গিয়ে বসতে মন সায় দিচ্ছে না।তাই সোজা বারান্দার ব্যালকনিতে চলে গেলাম।

এভাবেই চলে গেল তিনদিন।বিয়ের জন্য অফিস থেকে ছুটি নিয়েছিলাম সাত দিনের। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তিনদিনই বেশি।তাই,পরদিন অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।কপাল এতটাই খারাপ যে একটা রিকসাও পাওয়া যাচ্চে না তাই হেটে হেটেই যাচ্ছি।হঠাৎ কেউ পেছন থেকে রিকসা নিয়ে এসে সামনে দাড়াল।কলিগ রিয়াদ সাহেব..।লোকটা প্রচুর কথা বলে।এই মূহুর্তে মেজাজটাও অনেক গরম আমার..
-আরে নাহিদ সাহেব,কোথায় যাচ্ছেন?
-হাতে ব্রিটকেস, কোর্ট, টাই দেখেও বুঝতে পারছেন না!কোথায় যাচ্ছি।
-দেখেতো মনে হচ্ছে অফিসে যাচ্ছেন।কিন্তু আপনার ছুটিতো ৭ দিনের।
-আমার তিনদিনে কাজ শেষ হয়ে গেছে তাই,,
-বাহ..আপনিতো খুব এনার্জিটিক।
-ভাই,,এখন বাদ দেন না এসব কথা।
-ঠিক আছে, ঠিক আছে।তা রিকসায়তো উঠুন।হেটে যেতে যেতেতো ট্রেনও ছুটে যাবে।
-
উঠতে ইচ্ছে করছে না,তবুও বাধ্য হয়েই উঠলাম।
-
-তা ভাই,বিয়ের লাড্ডু কেমন লাগলো?
এখন যদি বলি ভালো না,অবস্থা খারাপ তাহলে হাজারটা প্রশ্ন করবে।
-হ্যা ভাই! হেব্বি মজার,আমারতো এখন আফসোস হচ্ছে আরোও আগে কেন বিয়ে করলাম না।
-হাহাহা..ভাই ম্যাচ শুরুই করলেননা এখনই হলুদ কার্ড পেয়েগেলেন।
-হ্যা আমি!আমি জানতাম আপনার মতো ইন্টালিজেন্ট লোক বিষয়টা ধরে ফেলবেন।কিন্তু আমাকে কি একটু বলবেন কিভাবে আপনি বুঝলেন।
-এটাতো সিম্পল,সাধারনত বিয়ের পর কেউ তিনদিনে এত খুশি হয় না।
-আচ্ছা ভাই এই বিষয়টা বাদ দেন।রিকসাওয়ালা ভাই শুনছে!
-আচ্ছা বাদ দিলাম।কিন্তু একটা কারনে আপনাকেতো আমি খুজছি।
-কেনো?
-আর বলবেন না।আমার বউ কাল আপনাদের বাসায় গিয়েছিল।আপনাদের রুমে গিয়ে অনেকক্ষন ভাবির সাথে কথা বলে এসেছে আর বিয়েতে আপনি যৌতুক হিসেবে যে খাটটা পেয়েছেন সেটা আমার বউয়ের খুব ভালো লেগেছে।তাকে নাকি এরকম একটা খাট কিনেই দিতে হবে।
-ভাই, আপনাকে ফ্রী-তে একটা বুদ্ধি দেই।এইটা কিনে দিয়েন না।তাহলে বউয়ের উপর কখনও রাগ দেখাতে পারবেননা।
-আরে রাগতো আপনি দেখাতে পারবেন না।কারন এটা আপনি যৌতুক পেয়েছেন।আর আমি তো কিনে দেব, যাতে আমি রাগ করলেও কিছু করতে না পারি।এতে আমার লাভ।
-এই ভাই, রিকসা থামান।
-আরে,রিকসা থেকে নামছেন কেনো?
-আ.আসলে আমি ভুল করে আমার ভেতরের গেঞ্জিটা বাসায় রেখে এসেছি।তাই বাসায় যেতে হবে।
-আরে একটা গেঞ্জি-ইতো! চলেন অফিসে..
-না এটা ছাড়া আমার আন-কমফর্টেবল ফীল হয়।আপনি যান আমি আসছি...
-ঠিক আছে, কিন্তু অফিসে এসে আমাকে বলবেন কিন্তু খাটের দাম।
চলে গেল,এদিকে আমিও একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললাম।অফিসে এসে সোজা নিজের চেয়ারে বসে পরলাম।লোকটার কথায় মাথা ধরে গেছে।মাথায় হাত বুলাচ্ছি এমন সময় মোবাইলটা বেজে উঠল।ফোন হাতে নিয়ে দেখি জাপান থেকে অপু ফোন দিয়েছে।
-কিরে দোস্ত,কেমন আছিস?(অপু)
-ভালো,তুই কেমন আছিস?
-ভালো আছি।তা নতুন বিয়া করলি মুখে একবার বললিও না।
-আরে,বললে কি তুই আসতে পারবি নাকি।আর বিয়ের আগের দিন যে এনগেজ্ড রিলেশনশীপ স্ট্যাটাস দিলাম ফেসবুকে সেখানে তুই না উইশ করলি!
-হ্যা, সেখান থেকেইতো ভাবিকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালাম।ভাবিতো দেখি হেব্বি ফেমাস ফেসবুকে।
-তাই নাকি!
-হ্যা,গতকাল সন্ধ্যার এক স্ট্যাটাসে-তো ৪০০০+লাইক পড়েছে।
-বলিস কি। কি ছিলো স্ট্যাটাস?
-তোর বিয়ের যৌতুক হিসেবে পাওয়া টেবিলে সাজানো ডিনার সেটের ছবি।কি সুন্দর এংগেল থেকে ভাবি ছবিটা তুলেছে!উফফ...
সাথে লিখে দিয়েছে "আমার বিয়েতে বাবার দেয়া যৌতুক🙌"।কমেন্টে আমাদের বন্ধুরাতো গুমরি খেয়ে পরছে।কেনো তুই পাসনি?
-আমি তাকে আনফ্রেন্ড করেছি।(,damn it!আমার মান সম্মান আর কিছু রইল না)
-ভাল করেছিস,বউকে ফ্রেন্ড লিস্টে রেখে কি ফেসবুক চালানো যায়।আচ্চা শুন দোস্ত, আমাকে একটা কাজ করে দে।ফেসবুকের ঐ ছবিতে ভাবির হাতে একটা মগ,মনে হচ্ছে যেন কফি খাচ্ছেন। মগটার নিচে লেখা"made in japan"।সেটটা নাকি অনেক স্ট্রং,এই ডিনারসেট জাপানের কোন কম্পানির এই খবরটা আমাকে দে।ভাবিকে মেসেজ দিলাম তিনি রিপ্লাই দেন না।
-ভাই,তোকেও ফ্রি-তে একটা বুদ্ধি দেই..
-কি বুদ্ধি?
-তুই এগুলো কিনে দিসনা।তাহলে বউয়ের উপর কখনও রাগ দেখাতে পারবি না।গ্লাস ছুড়ে মারলে ভাঙেনা,কারন স্টিলের।কি প্লাস্টিকের তৈরী কাপ দেখলে মনে হয় যেন টেনিস বল।ছুড়ে মারলে বাউন্স মারে।আর এখন কি স্টিলের প্লেটের দিন বল?প্লেট দিছে স্টিলের। শুধু মাটির তৈরী বউটারেই পাইছি।
-তাই নাকি! আমারতো এগুলোই দরকার।
-মানে!
-আরে, আমিতো এখানে ঘরে থাকি। আমার বউ যায় কাজে।তার সাথে যদি কখনও আমার ঝগড়া হয় সে ঘরের আসবাবপত্র ছুড়ে মারে এবং ভেঙে ফেলে।তারপর আমাকে শিক্ষা দেয়ার জন্য আর কিনে দেয়না।জানিস,মাঝে মধ্যে আমি চায়ের ট্রে-তে ভাত খাই।দে না ভাই আমাকে ইনফর্মেশনটা।
-হ্যালো..হ্যালো..(আমি)
টুট..টুট..টুট..
ওহহ..মাথা ধরা আরও বাড়িয়ে দিল।আজ আর অফিস হবেনা।বাসায় চলে গেলাম।বাসাওতো আমার জন্য চিড়িয়াখানা।দেখা যাবে, ছোঁয়া যাবেনা।কারন, যৌতুকের কিছুই আমি ধরবনা বলে প্রতিজ্ঞা করেছি।তাই ফ্রেস হয়ে বাহিরে এলাকায় ঘুরতে বেরিয়ে পরলাম।একটা টং দোকানে চায়ের অর্ডার দিলাম।চা খেলে নাকি মাথা ব্যাথা কমে।যখনই চায়ে চুমুক দিতে যাব তখনই দেখি এলাকার ছোট ভাই ইমন পাশে এসে বসল..
-আরে, নাহিদ ভাই সকালে কোথায় ছিলেন?(ইমন)
-অফিস..
-ওহ আমরা আরও মনে করেছিলাম আপনি বাসায় থাকবেন তাই ভাবিকে দেখতে গিয়েছিলাম।
-তা আমাকে আগে বলে আসবিনা!
-আরে তাতে কোনো সমস্যা নেই।আমরাতো ভাবিকে দেখতে গিয়েছিলাম।ভাবি আমাদের সেইরকম আপ্যায়ন করিয়েছেন।আর আপনার বিয়ের যৌতুক পাওয়া সোফাসেটের সাথে সেলফি নিয়ে আমিতো সেলিব্রেটি হয়ে গেছি।এইযে দেখুন,মনে হচ্ছে যেন আগের আমলের কোনো রাজ সিংহাসনে বসে সেলফি নিছি।আমার বন্ধুরা কেউতো এটা বিশ্বাসই করছে না।বলছে আমি নাকি এডিট করেছি।তাই আমি আপনার বাসার কথা বলেছি দিয়েছি যে আপনি এটা বিয়েতে যৌতুক হিসেবে পেয়েছেন।তাইতো এলাকার সবাই সকাল থেকে আপনার বাসায় যাচ্ছে আর আসছে এটার সাথে সেলফি নেয়ার জন্য...
-কি বললি....!
দৌড়ে গেলাম তাড়াতাড়ি বাসায়।গিয়ে দেখি ছোট ভাই মাসুম,হাবিব আর আবির বসে আছে।
-এই, তোরা এখানে কি করছিস?(আমি)
-ভাই, আমরাতো ভাবিকে দেখতে এসেছিলাম।(মাসুম)
-ভাবি কি রোবট সোফিয়া নাকি,যে এখনই না দেখলে আর দেখা যাবে না।যাঃ..এখান থেকে ভাগ..
-আচ্চা ভাই যাচ্ছি!ভাই,একটা সেলফি!প্লিজ...
-দাড়া,তোদের সেলফি দিচ্ছি!!
-এই,ভাগ...(আবির)
-আরে,, আরে, কোথায় যাচ্ছিস!কি ব্যাপার, তুমি ওদের তাড়িয়ে দিলে কেনো?(বউ)
-এটা বাসা না মিউজিয়াম!যেন সেলফি তুলতে হলে এখানে আসতে হবে।
-তো কি হয়েছে!সেলফি তুললে কি এটা নিয়ে চলে যাবে নাকি?
-নিয়ে চলে গেলেতো ভালই হত।শুনো, আর যদি এলাকার কেউ আসে তাহলে তাকে কিক মেরে বের করে দেবে।
-যদি বলে, ভাবি ভাইয়াকে আপনারা কি দিলেন যৌতুক, তা দেখতে এসেছি।তাহলে...
-তাহলে আরও জোরে কিক মারবে।
-অসম্ভব!পরে তারা বলবে আমার বাবা কমদামী জিনিস দিয়েছে।
-দেখো, তোমাকে এটা করতে হবে!
-পারবোনা..
-পারবে..
-পারবোনা..
-পারবে..
-চুপ করো তুমি
-তুমি চুপ করো
-চুপ করো
অবশেষে আমি চুপ করেই পরিস্থিতি আন্ডার কন্ট্রোল করি।এভাবেই চলতে থাকে।কেটে যায় ছয় মাস।
.
এখন আর আমাদের মধ্যে বাক-যুদ্ধ হয়না,সম্মুখ যুদ্ধ হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল আমিতো বাঙালি।বাংলার সন্তান। আমি নিরস্ত্র। আর আমার বউ হল চীন,জাপান,আমেরিকার সন্তান।তার কাছে অনেক অস্ত্র আছে।এখন ঘরের পাতিল,কাপ,গ্লাস দেখলে মনে হয় যেন কামানের গোলা,গ্রেনেড আর অ্যাটম বোম।তাছাড়াও আজকাল আমার বউয়ের অনেক আপডেট হয়েছে।প্রতিদিন একটা করে সেলফি দেয় ফেসবুকে।হাতে কাপ, ব্যাকগ্রাউন্ডে সোফা অথবা ডিনার সেট ইত্যাদি থাকে।এসব যন্ত্রনায় অতিষ্ট হয়ে একদিন...
-তুমি যদি আজই এসব ফিরিয়ে না দাও তাহলে..
-তাহলে কি?
-তাহলে আমি নিজেই এসব ফিরিয়ে দেব।
-হাততো লাগিয়ে দেখাও!
-আচ্ছা ঠিক আছে,কেননা আমরা একটা শান্তিচুক্তি করে নেই।
-কি সেটা?
-আমি তোমার বাবাকে এসবের টাকা দিয়ে দেই।
-আমার হাতে কি এটা দেখেছ!
-ছি: বদনা হাতে নিয়ে হাটছো কেনো।
-বদনা কি খারাপ জিনিস নাকি?এটা ভাল কাজে ব্যবহার করা হয়।আমার অজু করার কাজে লাগে।স্টিলের হলেও এটা তোমার মাথায় ভাঙব।আমার বাবার কি টাকা পয়সা কম পড়েছে?নাকি আমার বাবার কোনো মান সম্মান নেই!
-তুমি আজ যা-ই বলো। আমি কোনো যৌতুক চাইনা।তুমি আজই এগুলো ফেরত দিবে।
-পারবনা।
-পারবে
-পারবনা
-পারবে
-বললামতো পারবনা
অতঃপর হাতের কাছের একটা জগ ছুড়ে মারলাম আর বউয়ের হাতের বদনা আমার মাথায়।
.
-আহহহ....এগুলো ফিরিয়ে দাও বলছি।
.
আমি যৌতুক চাইনা...
.
আমি যৌতুক চাইনা...
.
আমি যৌতুক চাইনা...
.
-এই নাহিদ, কি হয়েছে তোর!এই নাহিদ..(মা)
.
-আমি যৌতুক চাইনা..
.
-কেনো কি হয়েছে?
.
-মা,তুমি এখানে!!
.
-আমি এখানে মানে!আজ-না নিশিদের বাড়িতে যাব,তোর বিয়ের পাকা কথা দিতে।
.
-ভাইয়া, তাড়াতাড়ি গিয়ে ফ্রেস হয়ে নাও।নাহলে তোমাকে রেখেই আমরা চলে যাব আর সেখানে গিয়ে বলব ছেলে টয়লেটে বিজি...(ছোট বোন)
.
-এতক্ষন ধরে ডাকছি তোকে।লেট হয়ে গেল-তো,এইরকম একটা দিনে কেউ কি এত লেট করে ঘুম থেকে ওঠে।যাঃ..তাড়াতাড়ি গিয়ে ফ্রেস হ..(মা)
.
মনে হচ্ছে যেন আমি সদ্য জন্ম নেয়া একটা শিশু।কিছুই বুঝতে পারছিনা।তাহলে কি সবই একটা দুঃস্বপ্ন ছিলো....!
.
অতঃপর আমরা নিশিদের বাড়িতে গেলাম।সবকিছু ঠিকঠাক, এমন সময় চাচাজান কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই..
-আমার একটা কথা! বিয়েতে আমরা কিছুই চাইনা
।শুধু মাটির তৈরি এই পুতুলটাকে চাই..


____আমি যৌতুক চাইনা____
.
.কারন,
.
___বউ+যৌতুক=দুঃস্বপ্ন ___
.
_[বি:দ্র: ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল☺]
.
(গল্পটা কাল্পনিক)

2 Comments Here
  1. 1 year ago
    Rakib Alom

    Ha Ha Ha, Nice Story...!

  2. 1 year ago
    S M Rimon Nahid

    Thank you

Authentication required

You must log in to post a comment.

Log in
Related Post
তোমার কখনো..
তোমার কখনো ইচ্ছে হয়না আমায় চুমু খেতে?

''আচ্ছা একদিন ভুল করে তুমি আমায় চুমু দিতে পারোনা?' তার মুখে আচমকা এমন কথা শুনে অনেকটা..


ভাবাবেগ
ভাবাবেগ

'ভাইয়া ভাংতি দিন তো' বলেই একটা একশত টাকার নোট এগিয়ে দিল মেয়েটা।

ফেসবুকে ব্যাস্ত আমি মেয়েটার..


ব্রেক আপ..
ব্রেক আপ বাহ্যিক জগতে সম্ভব,অভ্যন্তরীণ জগতে নয়!

নীরা কল দিয়েছে।এই মেয়েটা ব্রেক আপ এর পরেও ৩বছর ধরে কল দিচ্ছে।এই মেয়ে কী বোঝেনা ব্রেক..