# উপায়

  • Share this:

 

>"আপনার চোখ দুটোতো খুবই সুন্দর"।

কথাটা বলে নিজেকে খুব বোকা মনে হচ্ছে। অপরাধী মনে হচ্ছে খুব নিজেকে। যাকে কথাটা বললাম সেই কোনো রিয়েক্ট করলো না।শুধু একবার মুহুর্তের জন্য তাকাঁলো।আর কিছুই করলো না।

লজ্জার মাথা খেয়ে আবার বললাম.. >আপনার নাকটাও কিন্তু বেশ সুন্দর।

মনে হয় আমার বলা কথা শুনতে পায়নি।

আবারো বললাম,

>আপনার চুল গুলো কিন্তু বেশ ঘন, কালো এবং লম্বা।আমার কাছে কিন্তু ভালো লাগছে।

>এই আপনার সমস্যা টা কি! বলেন তো। আপনি নিজের সীট আমাকে দিলেন বলে কি এভাবে আমাকে বিরক্ত করবেন। আপনার সীটেই এসে বসুন। তাও আমাকে বিরক্ত করবেন না প্লিজ।,

আমি ওর কথা গুলো শুনে নিচের দিকে একমনে তাকিয়ে আছি।মনটা খানিক খারাপ হলো। সীট থেকে নরছি না। আমি ফীল করছি ওনি কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে ধপ করে সীটে বসে পড়লেন। সীটটা হালকা কেপে উঠলো। মাঝারি সাইজের শরীরের গঠন।

বাড়ি থেকে চিটাগাং যাবো এক বড় ভাইয়ের বিয়েতে। ভার্সিটি পড়া কালে যে মেসে থাকতাম।ওই মেসের ছোট একটা রুমে আমি আর সজিব ভাই থাকতাম। আমার চেয়ে ২বছর সিনিয়র ছিলেন ওনি।বন্ধু, বড় ভাইয়ের মতো ব্যাবহার করতেন আমার সাথে।সজিব ভাইয়ের মতো ঘনিষ্ঠতা আর কোনো বন্ধুর সাথেই গড়ে উঠেনি।বাসা থেকে বাসস্টপে যেতে রিকশা লাগে। রাস্তা মেরামতের কারণে ছোট-খাটো একটা জ্যাম লেগেছে।এদিকে যে বাসের টিকেট কেটেছি ওটা ছাড়ার সময় ও হয়ে গেছে। ওই বাসের টিকেট চেকার আমার পরিচিত হওয়ার কারণে ওনাকে কল দিয়ে ৫মিনিট অপেক্ষা করতে বলি।

বাসে উঠে আমার সীট নাম্বার মিলিয়ে দেখি অপূর্ব সুন্দরি একটা মেয়ে আমার সিটে বসে আছে। আর মোবাইলে কিছু করছিলো। বলেছি,

>এইযে মিস আপনার বসা সীটটা আমার। যদি ছেড়ে দিতেন।

মনে হলো ভুল বলে ফেললাম। বাসের খোলা জানালার বাতাসে ওর চুল গুলো উরে উরে আমার মুখের উপর এসে পড়বে।আর আমি প্রাণ ভরে চুলের ঘ্রাণ নিবো।এটা আমার অনেক দিনের শখ।মনে মনে চিন্তা করলাম উনি যেনো জানালার পাশের সীটে বসার আবদার করেন। আমার দিকে এক রকমের ঘোর ধরানো দৃষ্টিতে তাকালো। প্রথম দেখিতেই ভালো লাগলো।ডগর ডগর চোখ,সরু নাক,গোল গোল গাল। সব মিলিয়ে যেনো এক রুপ কারা নারী।

ওনার চোখ দুটো ছোট হয়ে গেলো।গাল গুলো হালকা ফুঁলে উঠলো।চাপা স্বরে বললো,

>আমার না জানালার পাশের সীট ছাড়া বসতে অসস্থি লাগে।যেনো দম বন্ধ হয়ে উঠে।আপনি কি কষ্ট করে আপনার সীটটা আমাকে দিবেন?

>অব্যশই। বসেন।কোনো সমস্যা নেই।

আহ! কি আহামরি আলাপন। খুব ভালো লাগলো।মনে হচ্ছিলো আজকের জার্নিটা বোধহয় খুব ভালো ভাবেই কাটবে। এসব ভাবতে ভাবতে তন্দ্রা লেগে গেলো। বাসে উঠলেই ঝাকুনিতে আমার ঘুম চলে আসে।

শরীরে ধাক্কা লাগতেই ঘুমটা চট করে ভেঙে গেলো। মেয়েটা ডাকছে।বাসটা থেমে আছে।হয়তো খাবার বিরতি।

>জী বলুন।

>সরি।আপনার ঘুম না ভাঙার কারণে ধাক্কা দিলাম। আমি একটু বাসথেকে নামবো। আপনি বসে আছেন। তাই সীট থেকে বের হতে পারছি না।একটু সাইড দিন।

সীট থেকে উঠে সাইট দিলাম।মেয়েটা চলে যাচ্ছে।ঢেং ঢেং করে চলে যাচ্ছে। আর আমি তাকিয়ে আছি।মেয়েটা কথা বলার সময় চোখে চোখ রেখে কথা বলে।ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ লেগেছে। এমন সময় মোবাইলটা বেজে উঠলো।পকেট থেকে বের করে দেখি সজিব ভাই কল করেছে। রিসিভ করলাম।

>কোথায় আছিস এখন(সজিব ভাই)

>এইতো ভাই বাসে।

>আর কতক্ষণ লাগবে মনে হয় তোর এখানে পৌছাতে?

>৩/৪ ঘন্টা বোধহয়।

>ধেত এ জন্যই তরে বললাম দু'দিন আগে চলে আয়। আগে তো আমার কথা খুব শুনতি। এখন যেনো কোনো আগ্রহই দেখাস না।প্রেম-ট্র্রেম করিস নাকি?

>কি যে বলেন ভাই। আমি কি ওরকম!

>তুই কেমন তা আমার হাড়ে হাড়ে জানা আছে বেদ্দপ।

>আগে প্রেমে না পড়লেও এখন মনে হচ্ছে আমার প্রেমে পড়া বাধ্য।

>সেকি! আমাকে তো একবার ও বললি না। নাম কিরে ওর?

>একেবারে এসেই বলবো।

আর কথা না বলে কল কেটে দিলাম।কল না কাটলে হেনতেন শুরু করে দিতো।

আমারো পেট টা খালি খালি লাগছে।কিছু খাওয়া দরকার। বাস থেকে নেমে কয়েক কদম পা ফেলার পর দেখলাম মেয়েটা একটা দোকান থেকে কিছু কিনছে। আমি হাত দিয়ে চুল ঠিক করতে করতে ভাব নিয়ে দোকানের দিকে এগিয়ে গেলাম।

দোকানদার কে উদ্দেশ্য করে বললাম

>"ছোট ভাই দুইটা চিপস আর একটা পানির বোতল দাও।"

দোকানির টাকা পরিশোধ করে বের হয়ে যাবো তখনি মেয়েটার গলা থেকে বেরিয়ে গেলো "এইযে মিস্টার "।

আমি ঘুরে তাকাই।মেয়েটা আমার দিকে ক্ষাণিক এগিয়ে আসে।মেয়েটিকে দেখে মনে হচ্ছে নিজেকে খুব বড় অপরাধী ভাবছে। মিনমিন করে বললো ''আপনার কাছে কি ভাঙতি হবে ১০০০টাকার। "

আমি ভেবেছি মেয়েটি হয়তো বলবে....ধেত কি চিন্তা করেছি। আর ওনি বলে কি। আমিও সোজা-সাপ্টা বলে দিলাম...

>না নেই।

>"ওহ।"

কানটা খারা করে রেখেছি তখন থেকেই। না হয় ওনার বলা "ওহ "টা শুনতেই পেতাম না।

>"ভাই কত টাকা হলো ওনার?"(দোকানি কে উদ্দেশ্য করে।)

>"২৭০টাকা"।(দোকানি)

টাকা পরিশোধ করে দোকান থেকে বের হয়ে মেয়েটাকে বললাম...

>"আপনার নামটা কি বলুন তো।"

পকেট থেকে এক টুকরো কাগজ কলাম বের করলাম।যেনো কোনো কিছু নোট করবো।

>"নাম দিয়ে কি করবেন?"

>"বা রে আপনাকে টাকা ধার দিলাম। তো আপনার নাম, বাবার নাম,গ্রামের নাম,মোবাইল নাম্বার রাখবো না।নাহলে আমার টাকা পাবে কোথায়?"

>"আপনাকে আমার সুবিধা লাগছে না। আমার মোবাইল নাম্বার দিলে দেখা যাবে আমাকে কল করে বিরক্ত অযথা।"

কথাটা আমার ভালো লাগেনি।মোটেই ভালো লাগেনি। "আমি কি অন্য দশজনের মতো!" নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করলাম। কে জানি।আমি তো ওনাকে কল করার জন্য,কথা বলার জন্য, প্রেম-ভালোবাসার জন্যই কল করতাম।মনে মনে ভিষণ হাসছি। আর কথা না বলে বাসে এসে বসলাম। এখন মিনিমাম ১০টার উপরে বাজে। আর একটু ঘুমিয়ে নিলে মন্দ হবে না বোধহয়। বিয়ে বাড়িতে ঘুমাতে পারবো কিনা কে জানি।

বাসের হেলপারের ডাকে ঘুমটা ভেঙ্গেছে। পাশে তাকিয়ে দেখি মেয়েটা নেই।মেয়েটার বসার সীটে পরেছিলো একটা সাদা কাগজ। কাগজে লিখা" "আপনার সাথে কি অন্য কোনো দিনে অন্য কোন সময়ে পাশের সীটে বসে জার্নি করতে পারবো। আশায় রইলাম। কল করবেন কিন্তু। নচেৎ আপনার মোবাইল নাম্বার পাবোনা।"

নিচে মোবাইল নাম্বার।

এখনি কল করতে মনে চাচ্ছে। কিন্তু মেয়েটা যদি আমাকে ছেচড়া ভাবে। এই ভেবে আর কল করলাম না।

সজিব ভাইয়ের বাড়িতে এসে ডুকলাম এক রুমে। কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। কারণে অকারণে মেয়েটার কথা বড্ড মনে পড়ছে।মেয়েটাও কি আমার কথা ভাবছে।মনটা খারাপ হতে শুরু করেছে। মাথা নিচু করে বসে আছি। কতক্ষণ যাবৎ আছি মনে নেই।হুট করে দরজা খোলার শব্দ পেলাম।মাথাটা হালকা উচু করতেই যেনো শর্ক খাওয়ার মতো অবস্থা।

>"আমাকে ভেবে মন খারাপ করে একা রুমে থাকার কোনো প্রয়োজন আছে কি?"

জার্নি করে আসার ফলে হয়তো হেলোসিনেট হচ্ছে বলে মনকে বুঝালাম। মেয়েটা এখানে আসবে কি করে।হুদাই চিন্তা করছি। মাথা থেকে মেয়েটাকে ঝেড়ে ফেলতে ও পারছি না। শরীরে কারো স্পর্শ পেয়ে তাকালাম।সেই আগের দৃশ্য। খুব কি ভালো বেসে ফেললাম মেয়েটাকে। তাই বোধহয় এমন লাগছে।আগে তো কত মেয়েকেই দেখেছি।কারো প্রতি তো এমন মনোমোহিনীয় অনুভুতি হয়নি। কিছুর ধাক্কায় একেবারে বিছানায় শুয়ে পরলাম। সব ঘোর কেটে গেছে।

"আপনি এখানে?" (সেই মেয়েকে বললাম)

"আরে আমার নিজের বাড়িই তো এখানে। তো আমি থাকবো না নিজের চাচাতো ভাইয়ের বিয়েতে!"

"সত্যি?"

"আপনাকে মিথ্যা বলবো কেনো?"

"তাও কথা। "

এমন সময় ভাই আমাদের দেখে থ।ভাই বলল," তোরা কি আগে থেকেই চিনা-জানা?"

সাথে সাথে আমিই বললাম,"ভাই এটাই সে"

" কিরে শ্রুতি(মেয়েটার নাম) কি দেখিয়ে ছোট নিস্পাপ ভাইটারে পাগল বানিয়ে দিলি?"

"নিজেই জেনে নাও" বলেই লজ্জায় দৌড়।

আমি আর ভাই হাসতে হাসতে লুটিয়ে পরছি।যাক অবশেষে নামটা পাওয়া গেলো।'শ্রুতি' নামটা কয়েশ বার যপে মুখস্থ করে নিলাম।লিখেও রাখলাম।পরে মনে নাও থাকতে পারে।

"এখন তো চিন্তামুক্ত হয়েছিস। রিলেক্সে একটা ঘুম দে।বহু কাজ করতে হবে তোর।" বলেই ভাই হনহন করে চলে গেলো।

ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চমৎকার একটা সপ্ন দেখলাম।'আমাদের বিয়ে হলো অনেক গুলি বাচ্চা-কাচ্চা হলো।বহু বাচ্ছা।১,২,৪,৬, ৭ '

ঘুম ভাঙলো ফোনের রিংটোনে। যাহ গুনতেই পারলাম না কটা বাচ্চার বাপ আমি।

"হ্যালো কে?"

"আমি" (চিনতে পারলাম শ্রুতি।তখন ভাইকে বলেছি আমার ওনাকে কল দিতে লজ্জা লাগে।আপনি নাম্বার টা দিয়ে দিয়েন।একটু মজা নেয়া যাক।)

"কে নিশিতা?"

"না"

"তো সাদিয়া? "

"না "

"তাহলে শ্রাবনী"

"আমার সাথে মজা করিস না।সজিব ভাই কিন্তু তোর ব্যাপারে সব বলে দিয়েছে আমারে। প্লে-বয়ের ভাব ধরতে চাস না।খুব শখ।ছাদে আয় তোর শখ মিটাচ্ছি।২মিনিট

ের মধ্যে না আসলে রুমে গিয়ে পিটাবো। "

ভয়ে তরিগরি করে ছাদে গেলাম। জোরে একটা সালাম দিলাম।

"তুমি যে কত নিস্পাপ তা আমি গত এক দিনেই টের পেয়েছি।তোমাকে নিজের করে পেতে হলে আমাকে সব আমার মতো করে গরে তুলতে হবে।এখন আমার বান্ধবিদের সাথে মন ভরে কথা বলো।তখন কি কি না জানি বলেছো।এসব করে বেড়াও মেয়েদের সাথে না।বলো কথা, বলো বান্ধবিদের সাথে।আরে কোনো সমস্যা নাই তো। "

বলে কি প্রেম হতে না হতেই কি ফেঁসে গেলাম! কে জানি কি হয়। যতদিন ভাইয়ের বাড়িতে থেকেছি প্রতিটা মিনিটে মিনিটে মহারাণী হুকুম করেছে এটা করো,এটা আনো,সেটা করো জীবন পুরো তেজপাতা করে দিয়েছে।কথা ছিলো এক সাথে দু'জনে ঢাকায় ফিরবো। এক সাথে আসলে কি করে, না করে ভয়ে আমি জরুরী কাজ বলে একাই চলে আসলাম। ঘন্টায় ঘন্টায় কল দিচ্ছে। আর আকামা ভাই আমার বাড়িতে অলরেডি ব্যাপারটা পুরোপুরি ক্লিয়ার করে বলে দিয়েছে।বাড়িতে আসার পরে আমার মোবাইল টা আমার হাতেই পাচ্ছি না।মা-বাবা,বোন শুধু কথার উপর কথা বলে যাচ্ছে আমার হবু বউয়ের সাথে। শ্রুতির সাথে কি করবে না করবে সব আগে থেকেই প্লেন করছে। আর আমি হতছাড়া ভাবছি কটা বাচ্চা নিবো, কি ভাবে বহু বাচ্চা দেখা সপ্নকে বাস্তবে রূপ দিবো।সব শেষে কি ভাবে এমন শাসিত হবু বউয়ের থেকে রক্ষা পাবো। উপায় খুজছি। সহজ উপায়।

# উপায়

লিখাঃ-R. Md Rakib

ভুলত্রুটি মার্জনীয়।

 

Tags:

About author
আমি গল্প এবং বই প্রেমিক একজন মানুষ। গল্প এবং বই পড়তে খুবই ভালোবাসি। যেখানেই যে গল্প অথবা কাহিনী খুজে পাই সেগুলো সংগ্রহ করি এবং আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করি। আমি নিজেও কয়েকটি গল্প লিখেছি তবে সেগুলোর সংখ্যাটা খুবই সামান্য।