দ্যা হান্টার হাউজ

  • Share this:

প্রফেসর নীল যখন চার চাকা, জিপ গাড়ি নিয়ে শহরের মাঝ খানে বিশাল এক এলাকায় এসে নামলো, তখন আশে পাশে থাকা লোকগুলো বেশ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। তাকাবেই বা না কেনো? শার্লক হোমস স্টাইলে গায়ে মোটা কোর্ট, হাতে সিগারেট, চুলগুলো নেহাত কাটেনা বলেই বড় করে রাখা হয়েছে। মুখে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি। তবে নীলের থেকে চোখ সরিয়ে যায় যখন গাড়ি থেকে আরো দুজন লোক নামে। সাদা চামড়ার বিদেশিনী জেনিফাকে দেখে এলাকার লোক যেন হকভম্ব হয়ে যায়।

ছোট শহরতলীতে এলাকাটা বিশাল। কিন্তু বাজার সাইড ছোট জায়গা জুড়ে। তাই মানুষের আনাগোনা বেশি। তিনজন অপিরিচিত, বেসামাল দেখতে গাড়ি নিয়ে আসা লোকধের দেখে সবাই মোটামুটি মনে মনে অনেক ধরনের প্রশ্ন নিজের কাছেই করতে থাকে। নীল, জেনিফার আর অর্ক, এই শহরে নতুন।

নীলের মাথায় বড় একটি হ্যাট, গায়ে কোর্ট, পায়ে লম্বা সুজ। বাম হাতে থাকা সিগারেট ঠোঁট ধরে নিয়ে ডান হাত দিয়ে কোর্টের ভিতর থেকে একটা ছেঁড়া পত্রিকা বের করে, একটা খুপড়ি টাইপ ছোট্ট দোকানের সামনে যেয়ে দাঁড়ালেন তিনি। দোকানে থাকা কয়েকজন লোক তিনজন অপরিচিত লোকের এমন হুট করে আগমন দেখে এমনিতেই চমকে আছে। আর ওদের কাছেই যখন নীলেরা এসেছে তখন ভয় পেয়ে দোকান থেকে দুটো লোক দৌড়ে চলে যায়।

নীল মুচকি হাসে। কৌতুহলি মানুষগুলো কোনো বিষয়ে অধিক বেশি কৌতুহল প্রবণ হয়ে থাকে। কনফিউশনে থাকে তারা বেশি। কোনো বিষয়ে ভাবতে বসলে অনেক রকম চিন্তা করে ওরা। যেমন, জ্যোৎস্না রাতে ছোট কলা গাছের ছায়াকেও অনেকে ভুত ভেবে ভয়ে জ্ঞান হারায়। হয়ত এখানে থাকা লোকগুলোও নীলদের ঠিক বিশাল কিছু ভাবছে।

"এক্সকিউজমি স্যার, ক্যান ইউ হেল্প মি?"

নীলের মুখে এমন ভদ্র ভাষার ইংরেজি শুনে আরো একটা লোক দৌড়ে চলে যায়। অর্ক, আর জেনিফার বোকার মত তাকিয়ে এসবকিছুই দেখছে। নীল, ঠোঁট থেকে সিগারেট নামিয়ে আবারো মুখে পুরে নিয়ে ঠোঁট দিয়েই টানতে থাকে। একজন মুরব্বী লোক বেরিয়ে এসে নীলকে বলে.

- ইতা কিতা ভাষা কইছো বাপু? কিছুই বুজতার পারছি না?

নীলের মুখ থেকে সিগারেট পড়ে যায়। কি সাংঘাতিক কঠিন বাংলা ভাষা। তবে নীল সবকিছুতে পারদর্শী। তাই নিজেকে প্রস্তুত করে সামনে থাকা লোকটার মত করে। নীল বলে..

- স্যার, আমি জানতে চাইছি এখানে একটা পরিত্যাক্ত ঘর বা বাড়ি আছে। সেটা কোন দিকে জানেন? মানে ঐ ঘরে বা বাড়িতে নাকি কেউ যায় না। আর গেলে নাকি সে আর ফিরে আসতো না। এখন পরিত্যক্ত ঘর সেটা।

লোকটা চমকে ওঠে। মনে করার চেষ্টা করে, নীলের বলা ঘরের ডিসক্রিপশন অনুযায়ী এই এলাকাতে কোনো ঘর আছে নাকি। মনে পড়ে তার, আছে তবে তা পাঁচ বছর হল বন্ধ। সেদিকে কেউ যায়না। না যাওয়ার কারন হল জায়গাটা ব্যক্তিমালিকানাধীন হয়ে পড়ে আছে বড় এরিয়া করে। এই বাজারে ওখানেই প্রথম একটি বড় দোকান নির্মান করা হয়। লোকটা সেদিকটাই দেখিয়ে দিল।

নিল ধন্যবাদ জানিয়ে গাড়ির কাছে ফিরে আসে। অর্ককে বলে..

- স্যার কিছু জানতে পারলেন?

- পারবো না কেনো? প্রফেসর নীল কি আর এমনি এমনি শার্লক হোমস দাবী করে? সবটাই তার জানা।

- ওকে, লেটস গো মি. নীল। (জেনিফার)

- অর্ক প্লিজ ড্রাইভ দ্যা বিএম ডাব্লুউ কার।

অর্ক আশে পাশে তাকায়। প্রফেসর নীল যেমন জ্ঞানী তেমনি বেশ মজারও মানুষ। বুদ্ধিমান আর জ্ঞানী মানুষেরা মজারই হয়ে থাকে। বিশেষ করে সাইকোলজিষ্ট রা বেশি মজাদার হয়ে থাকে। কারন তারা যদি নিজেদের মাইন্ডই ফ্রেশ না করে তবে রোগীদের কিভাবে মাইন্ড ফ্রেশ করবে। নীল একজন লেকচারার, ইংলিশে লেকচারার হয়েও তিনি সাইকোলজি বেশ ভালোই বোঝে। তবে মাঝে মাঝে এমনভাবে মজা করে যা হাসতে হাসতে পেটে খিল লেগে যায়।

ওনি সবার সাথে মজা করেন, কখনো তার সাথে কেউ মজা করেনি। কারন তিনি ধরে ফেলতেন সবটা

। তবে এখন অর্কের সাথেও মজা করলো। অর্ক তাই বোকার মত বিএমডাব্লু কার খুজতে থাকে। নীল বললো.. "গর্দভ, ভাঙাচূরা জিপ গাড়িটাকেই চালাতে বললাম।"

অর্ক বোকার মত যেয়ে ড্রাইভে বসে। নীল পত্রিকাটা হাতে নেয়। ছ মাস আগের পত্রিকা। পত্রিকাটা রোজ পড়েন তিনি। খুটে খুটে পড়েন অক্ষর আর বাক্যগুলো। প্রথম আলো পত্রিকার সাত নাম্বার পেজে মোহাম্মদ, আব্দুল লতিফের শিরোনামে একটি খবর বেরিয়েছিল। রিপোর্টার আব্দুল লতিফ। তিনি লিখেছেন..

"দ্যা হান্টার হাউজ"> বেশ কয়েকবছর আগে নিঝুম তলীতে আসি বেড়াতে। সেখানে মশার প্রাদুর্ভাবে মারা যাচ্ছিল শত মানুষ। সেটার রিপোর্ট করতেই গিয়েছিলাম। তিনদিনের রিপোর্ট শেষ করে আমার টিম মেম্বাররা চলে আসে ঢাকায়। আমি আরো কিছৃ তথ্য ও লাইভ খবর প্রচারের জন্য থেকে যায়। পাচদিন পর রাতে বের হয়েছি শহরটা ঘুরে দেখবো বলে। লোকালয় থেকে কিছুটা দুরে চলে আসি। হঠাৎ কানে ভেঁসে আসতে থাকে.. "মরবি তোরা সবাই মরবি। যাসনে ও ঘরে তোরা যাসনে। আমি এ অবদি যাদেরকে ঢুকতে দেখেছি ঐ ঘরে, সে আর কখনো ফেরেনি। তোরাও ফিরবি না। যাস নে।"

আমি থমকে দাঁড়ায়। বড় একটি ঢোক গিলি। ধীর পায়ে ভেঁসে আসা শব্দের দিকে এগিয়ে যায়। একটা পাগলি ইঁটের ছোট টিলার উপর বসে একটা বদ্ধ ঘরের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বারবার রিপিট করছে। আমি বললাম কি হয়েছে.. পাগলিটা হেসে দিয়ে বলে..

- যাসনে ও ঘরে। যে যায় তাকে আর আমি ফিরে আসতে দেখিনি।

- মানে?

- যাস নে তুই যাস নে।

কথাটা বলেই পাগলি চলে যায়। আমি ঘরের দিকে কৌতুহলি দৃষ্টিতে তাকাতে থাকি। জনমানব নেই। রাত বারোটার পর অবশ্য না থাকারই কথা। বিশাল একটি ঘর। নতুন বানাচ্ছে। হয়ত ভিতর রেডি বাইরে তৈরী হয়নি। এ জন্য অনেকেই হয়ত সেখানে গিয়েছে। আর ফেরেনি। আমি সেই ঘরের দিকে এগুতে থাকে। কোনো সাইনবোর্ডও নাই বাইরে। ধীর পায়ে এগিয়ে যায় আমি। হঠাৎ খট করে শব্দ হল। শরীর থেকে যেন আত্তাটা বেরিয়ে যায় যায় করছে। কাঁপা কাঁপা শরীর নিয়ে আমি দরজার কাছে এগিয়ে যায়। ভিতর থেকে কেমন একটা গন্ধ নাকে ভেসে আসে।

আমি দরজায় হাত রাখতেই কারেন্ট চলে যায়। ভয়ে আত্বচিৎকার দিতে ইচ্ছে করলেও গলা দিয়ে তখনো কোনো শব্দ বের করতে পারিনি আমি। দরজা থেকে সরে আসতেই কিসের সাথে যেন হোঁচট খেয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এরপর আর কোনো হুস নেই আমার। জ্ঞান ফিরে তাকিয়ে দেখি আমি হসপিটালে। কপালে ব্যান্ডেজ। আর আমার পাশে আমার টিম মেম্বার, পরিবার বসা। তার মানে আমি কি ঢাকাতে। রহস্য জানার জন্য প্রশ্ন করি। টিম মেম্বারদের একজন বলে..

'স্যার আপনি আজ দুইদিন হল জ্ঞান হারিয়ে পড়ে ছিলেন। আজকেই আপনার জ্বান ফিরলো। আপনি যেখানে ছিলেন, সেখান থেকে এলাকার লোকেরা নিয়ে আসে ছোট ডাক্তারের ঘরে। সেখানে ডাক্তার আপনার আইডি কার্ড, নাম্বার পেয়ে ফোন দেয়। আমরা পরেরদিন নিয়ে আসি। আজকেই জ্ঞান ফিরলো। আপনার সারা গায়ে মশাল কামড়ের দাগ। আপনার কপাল ফেঁটে যায়।

কি হয়েছিল সে রাতে? কিসের সাথে হোঁচট খেয়ে পড়েছিলাম? পাগলিটা কেনো ওভাবে বলেছিল কথা? কেনো আমি জ্ঞান হারিয়েছিলাম? কি রহস্য থাকতে পারে সেই ঘরটাকে নিয়ে? জানা আর হয়নি। ভয়ে আর সেদিকেও যায়নি আমি। কেউ যদি রহস্যটা উদঘাটন করতো।"

.

প্রফেসর নীল কষে ব্রেক কষায় সামনে পড়ে যাচ্ছিল। তখনি পত্রিকা থেকে মুখ সরিয়ে নেয়। অর্কের দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে বকা দিতে যাবে খেয়াল করে, সেই জায়গাতে ওরা চলে এসেছে। এখন গোধুলী বিকেল। এই নিঝুম পুর আসতে ওদের বিকেল হয়ে যায়।

এখন জায়গাটা খুজে বের করতে সন্ধ্যা হয়ে এসেছে প্রায়। প্রফেসর নীল গাড়ি থেকে নামে। পরিত্যাক্ত ঘরটাতে একটার উপর বিশাল সাইনবোর্ড দেখতে পায়। কিন্তু সেই সাইন বোর্ডে থাকা লেখাগুলো একেবারেই পড়া যাচ্ছে না। হয়ত ধুলো জমে বা বৃষ্টিতে ভিজে লেখাটাই প্রায় উঠে গেছে।

বাড়িটার আশে পাশে এখন কোনো ঘর বাড়ি নেই। সেই ছোট টিলাটা দেখতে পায় নীল। আব্দুলের লেখার সাথে মিলে যাচ্ছে একদম। নীল আরো দেখে একটা খোলা মাঠ। পরিত্যাক্ত ঘরটার সামনেই খোলা মাঠটা। নীল বলে..

- আমরা আজকে রাত দুইটা অবদি মাঠের মাঝে তাবু টাঙিয়ে থাকবো। রাত হলেই আমাদের রহস্য উদঘাটনে বের হতে হবে।

অর্ক আর জেনিফার ওর পছন্দের স্টুডেন্ট। তাই ওদের সাথে নিয়ে, রহস্য উদঘাটনে আসে প্রফেসর নীল। কারন উনি লেকচারের থেকেও বেশি ইন্টারেস্ট রহস্য উদঘাটনে। তাই তিনি এই অসমাপ্ত রহস্য উদঘাটন করতেই এখানে আসেন।

.

মাঠের একপাশে তিনটে তাবু টানানো হয়। রাত একটা বাজে। নীল তাবু থেকে বের হয়। হাতে আগের দিনের জাহাজের ডাকাতেরা যে দূরবীণ ব্যবহার করতো ঠিক সেটাই ওনার হাতে। এন্টি জিনিস ওনার আবার বেশ পছন্দ। তাবু থেকে বের হয়ে তিনি দূরবীণ খাটিয়ে সেই ঘরটাকে দেখতে থাকে। সরাসরি চোখ যায় সাইনবোর্ডেে দিকে। দুটো লেখা বেশ বড় বড় হয়েই ওনার চোখের সামনে ভাসতে থাকে।

'ডা' আর শেষের দিকে একটা 'র'। নিলয় খাতা কলম বের করে। কি যেন কিছু সময় ধরে নানান আঁকিবুকি করেন তিনি। হয়ত ঐ তুটো অক্ষরের মাঝেই এই পরিত্যাক্ত বাড়ির রহস্যটা জানা যাবে এটা ভেবেই তিনি ঐ শব্দ মিলিয়ে নানা বাক্য লেখার চেষ্টা করছে। কিন্তু সন্দেহভাজন কোনো বাক্যই তিনি পাচ্ছেন না। তিনি আরো খেয়াল করে, সাইন বোর্ডের উপরে বিশাল একটা কালো ছায়া। বেশ ভয়ংকর একটি ছায়া। ঐ ছায়াটা এসে লেখা দুটোকে ঢেকে দিল।

ছায়াটা আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। আবার হুট করে ছোট হয়ে যাচ্ছে। কখনো কখনো ছায়াটা কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। আবার আসছে। নীল দূরবীণ লাগিয়ে কেবল এটাই দেখতে থাকে। বড় রকমের রহস্যের গন্ধ পান তিনি। নীল অর্কদের ডাকে।

- সময় হয়ে এসেছে। তাড়াতাড়ি বদ্ধ ঘরটাতে যেতে হবে।

- আজ না গেলে হয়না স্যার।

- চুপ করো গাধা কোথাকার। রহস্য জানতেই হবে আমাদের।

নীলের কথামত টর্চ লাইট হাতে এগিয়ে যায়। চারপাশে ইঁটের টুকরো, ছোট বড় নানা ইট পড়ে আছে। নীল টিলার কাছে এসে দাঁড়িয়ে ঘরটা আবারো দেখে। নীল আগে, অর্ক আর জেনিফার পিছনে আসতে থাকে। বদ্ধ ঘরের দরজার কাছে এগিয়ে যায়।

তালা বদ্ধ করে রাখা। বাইরের ল্যামপোষ্ট থেকে আলো এসে পড়ছে দরজার কাছে। নীল তালাতে হাত দিতেই সেই কালো ছায়াটা আবারো উদয় হয়। এবার সবাই দরজার উপর ছায়াটা দেখতে থাকে। কিছু বোঝার আগেই আবারো ছায়াটা ভ্যাণিশ হয়ে যায়। অর্ক জেনিফার হাত চেপে ধরে নীলকে বলে...

- স্যার ফিরে চলুন।

- আহ, হান্টার হাউজের রহস্য জানতেই হবে।

- আমরা যদি না বেঁচে ফিরি।

- সেটাই তো রহস্য। কেনো বেঁচে ফিরবো না? রহস্য বের করতেই হবে।

নীল তালাতে আবার হাত দেয়। ছায়াটা আবারো আবির্ভাব হয়। তবে নীল আর কোনো কিছুতে মন দেয় না। তালায় একটা হাত দিয়ে নাড়াতেই খুলে পড়ে যায়। নীল রহস্যের গন্ধ পেতে থাকে। কেনো হুট করে তালা খুলে নিচে পড়ে গেলো। কোথা থেকে ছায়াটা আসছে সব রহস্যের প্যাঁচ মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে নীলের।

দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করতেই অন্যরকম গন্ধ নাকে ভেঁসে আসতে থাকে সবার। জেনিফার বলে ওঠে..

- স্যার, আই নো, হ্যোয়াট ইট স্মেলস লাইক।

- কিসের গন্ধ?

- চেনা চেনা লাগছে। (জেনিফার)

টর্চ মেরে এগিয়ে যায় ওরা। দেয়ালে নানা মেয়েদের ছবি টাঙানো। অর্ক হাঁটতে হাঁটতে একটা চেয়ারের সাথে হালকা ভাবে বাড়ি খায়। সাথে সাথেই হুমমুড় করে একটা টেবিল ভেঙে পড়ে ফ্লোরে। অর্ক কাঁদতে কাঁদতে নীলের পিছনে এসে দাঁড়ায়। গন্ধটা তখন তীব্র হয়। নীলেরও তখন আংশিক ভয় হতে শুরু করে। কিন্তু কাঁচের টেবিল ভেঙে পড়াতে সেখানে ড্রয়ারে থাকা অনেক জিনিস ছড়িয়ে পড়ে। জেনিফা এক কদম পা ফেলতেই কিসের উপর পা পড়ে। আর সেটা পায়ের নিচে ঘুরে যেতেই ধম করে জেনিফার নিচে পড়ে যায়। অর্ক বিড়বিড় করে বলে..

- স্যার আত্বা চলে এসেছে। জেনিফাকে আহত করে মেরে ফেলতে চাইছে। স্যার চলুন চলে যায়।

অর্ক তাকিয়ে দেখে নীলের কপাল থেকে রক্ত বের হচ্ছে। অর্ক আরো ভয় পেয়ে যায়। কাঁদতে কাঁদতে বলে,

- স্যার,, এবার আপনিও আহত হলেন। আমি শেষ। পালায়।

অর্ক পালাতে যাবে নীল পিছন থেকে হাত টেনে ধরে। ওদিকে অর্ক চোখ বন্ধ করে দৌড়ানোর প্রস্তুতি নেয়। ভয়ে সে চোখ বন্ধ করেই নিল। চিৎকার দিতে দিতে বলে..

- আত্বা আমাকে ছেঁড়ে দিন। আমার হাত ছাড়ুন। আমি আসতে চাইনি।

- অর্ক এদিকে তাকাও। আমি তোমার স্যার। ঘোরো বলছি।

অর্ক ঘুরে তাকায়। নীলের হাতে একটি রুম স্প্রে করার রোল কৌটা। নীল বলে..

- এইটা এসেই আমার কপালে লেগেছে। কারন জেনিফার এইটার উপরেই পা দেয়। আর সেটা পায়ের নিচে ঘুরতেই জেনিফার পড়ে যায়। তারপর সেটা ছুটে এসে আমার কপালে লাগে। ভালো করে খোজো, দেখো কি আছে।

- স্যার, আমি একটা লিপিষ্টিকের স্টিক পেয়েছি। (জেনিফার)

- স্যার এখানে ইন্ডিয়ান ফেয়ারলুক বক্স। (অর্ক)

- স্যার, এখানে মেকাপ বক্স।? মেকাপ গুলো এভাবেই রয়ে গেছে। তাই এখান থেকে গন্ধ ছড়াচ্ছিল। মানে মেকাপের গন্ধ। (জেনিফার)

- কিহ? তাহলে এইটা কিসের ঘর?

- স্যার বিউটি পার্লার না তো? (অর্ক)

- পার্লার.. র.. র শব্দটা চেনা চেনা লাগছে।

নীল কথাটা বলেই প্রবেশ দরজার কাছে টর্চ পড়তেই চোখ আটকে যায়। লেখাটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। 'মডার্ণ বিউটি পার্লার।' এতক্ষনে ঐ শব্দ দুটোর রহস্য জানা গেলো। কিন্তু ঐ প্রানীটা কিসের? আর ঐ পাগলের বলা কথাগুলো? নীল ভাবতে ভাবতে আরো একটা বিশ্রি শব্দ শুনতে পায়।

পিছনে তাকিয়ে দেখে অর্ক আর জেনিফার র‍্যাকের সাথে থাক্কা লেগে পড়ে আছে। নীল বলে..

- বাইরে এসো। ঘরের রহস্য উদঘাটণ করলাম। এবার বের করতে হবে কালো ছায়াটা কিসের? আর পাগলিটা কেনো বলেছিল, এখানে ঢুকলে কেউ ফেরে না সেটার রহস্য কি?

নীলের কথা মত বাইরে আসে। নীল দরজা থেকে বের হবে দেখে ল্যামপোষ্টের আলোতে ছায়াটা ওর গায়ের উপর এসে পড়েছে। নীল সাথে সাথেই ল্যামপোষ্টের দিকে তাকায়। দেখে বড় একটি পাঁচিলের উপর একটি বিড়াল শুয়ে আছে। আর ল্যামপোষ্টের আলো ওর গায়ে এসে পড়ছে। আর সেটার ইফেক্ট এসে পড়ছে এই ঘরের দরজা ও সাইনবোর্ডে। নীল বোকার মত তাকায়। নিজেকে গালি দিতে ইচ্ছে করছে।

যখন বাড়ির এরিয়া থেকে বের হয়ে মেইন রাস্তায় আসে। নীল জেনিফার আর অর্কের দিকে তাকায়। নীল চমকে ওঠে। জোরে শব্দ করে বলে..

- এই তোমরা কারা?

- স্যার, আমি অর্ক।

- আমি জেনিফার। কেনো চিনতে পারছেন না?

- তোমাদের মুখে সাদা এই বস্তুটা কি?

- ওহ এটা? এটা তো স্যার মেকাপ করার সময় লাগাতে হয়। (জেনিফার)

- এক মিনিট...

নীল অর্কদের চারপাশে ঘুরতে থাকে। কিছুক্ষন ওদের মুখের দিকে গম্ভীর চাহনি দিয়ে তাকিয়ে থেকে হো হো করে হাসতে হাসতে বলে..

- চলো ঢাকাতে যায়। আব্দুল রিপোর্টারকে ডেকে হান্টার হাউজের রহস্যটা বলতে হবে। বেটা আহম্মক একটা।

- কেনো স্যার?

- পাগলির কথা জানো তো?

- জ্বি স্যার, বলেছিল যে একবার এই ঘরে ঢোকে সে আর ফেরে না।

- আরে অর্ক, ফিরবে কিভাবে? তুমি ঢুকেছিলে সাধারন ভাবে। আর বাইরে বের হয়েছো মুখে মেকাপ লাগিয়ে তাহলে তোমাকে কি কেউ চিনতে পারবে? কালো মানুষ যদি পার্লারে যায়, সেখানে বের হওয়ার সময় মুখ হয়ে যায় সাদা। তাহলে তুমি চিনতে পারবে?

- এ্যাঁ...? (অর্ক)

- হিহিহি.. পাগলির কোনো দোষ নেই। সে ঠিকই বলেছে। পাগলি এখানে এসে রোজ বসে থাকতো। সে দেখতো কালো, সাধারন ভাবে মানুষ প্রবেশ করছে ঘরে। আর বের হচ্ছে মেকাপ লাগিয়ে সাদা হয়ে সুন্দর মুখ নিয়ে। তাহলে পাগলি চিনবে কি করে? মেকাপ করিয়েই তো চেহারা সুন্দর বা চেন্জ করে দেয় বিউটিশিয়ান রা। আমাদেরই বোঝা উচিৎ ছিল, এইটা বিউটি পার্লার। আর পাগলির বলা কথাটা একটু অন্যরকম হয়ে যায়।

মুলত সে মেকাপের আগে যাকে দেখতো, মেকাপের পর আর তাকে চিনতেই পারতো না। হায়রে হান্টার হাউজ।

.

অর্ক আর জেনিফার আবুল হয়ে হাঁটতে থাকে নীলের পিছনে। ওদিকে নীল মনে মনে বলে জীবনে আর রহস্যই উদঘাটনে যাবো না।

(সমাপ্ত)

.

Abir Hasan Niloy

About author
আমি গল্প এবং বই প্রেমিক একজন মানুষ। গল্প এবং বই পড়তে খুবই ভালোবাসি। যেখানেই যে গল্প অথবা কাহিনী খুজে পাই সেগুলো সংগ্রহ করি এবং আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করি। আমি নিজেও কয়েকটি গল্প লিখেছি তবে সেগুলোর সংখ্যাটা খুবই সামান্য।
Comments (1)
storialtech-user-avatar

Nice Story

Rimon Nahid 3 weeks ago