হুরমুজ ভাইয়ের ঢকের বউ

  • Share this:

হুরমুজ ভাই একজন ছোট মুদি দোকানদার। তবে লোকটা খুবই আলাবোলা একটা মানুষ। তবে গায়ের রং কালো বলে অনেকেই কালা হুরমুজ বলে ডাকে। আর কালা হুরমুজ বলার আরেকটা কারন হলো,এলাকায় আরো একজন হুরমুজ আছে। তাই মুদি দোকানি হুরমুজকে চিহ্নিত করার জন্য কে বা কাহারা নামের আগে "কালা" পদবীটা দিয়েছে। সে যা ই হোক। আমাদের কালা হুরমুজ ভাই নাকি নায়িকা পূর্নিমার মতো একটা সুন্দুরী নারী বিয়ে করেছেন।

কালা হুরমুজ ভাইয়ের ঘরে পরীর মত একটা বউ আসলো,এ খবরটা পুরো গ্রামে ছড়িয়ে গেলো।

পাশের বাড়ির সখিনা খালার সাথে দেখা হলে, তিনি আমায় বলতে লাগলো- কিরে ভাগিনা,অহনও বিয়া করস না ক্যা?যাইয়া দেখ্, কালা হুরমুইজ্যা সুন্দুরী একটা বউ নিয়াইছে। কপালডা তার খুবই ভালা।

আমি সখিনা খালারে বললাম, সুন্দুরী মাইয়া বিয়া করলেই কি কপাল ভালো হয়?জগতের সব কালো মাইয়া গুলো তাহলে খারাপ?

সখিনা খালা,একটা ভেংচি কেটে বলতে লাগলো,তাইলে ছাই এর মত কাইল্যা একটা মাইয়া বিয়ে কইরা দেখা?সব বেডাইতেও(পুরুষ) তো সুন্দর মাইয়া খুঁজে।

বললাম,সখিনা খালা,সবে তো বিয়ে করলো,কয়দিন পর টের পাইবা কালা হুরমুইজ্যা কতটুকু সুখে আছে।

শোনো,সুন্দর মাইয়া বিয়া কইরা তার চেহারা দেইখ্যা পানি খাইলেই হইবো না, একটা সুন্দর মনও থাকা চাই।

কত্ত দেখছি, সুন্দর মাইয়া গুলো ঘরে জামাই রাইখাও অন্য বেডা লইয়া ভাইগ্যা গেছে।

কালা হুরমুজ ভাইয়ের বিয়ের সাত মাস পরের ঘটনা.....

আজ দশ দিন হলো, কালা হুরমুজের মুদি দোকান বন্ধ। ঘটনার সূত্রপাত জানতে হেকমত চাচার কাছে জানতে চাইলাম,দোকান বন্ধ কেনো?

হেকমত চাচা, পান চিবুতে চিবুতে কহিলো--কি কমুরে বাপু,তারে (কালা হুরমুজ) কইছি,বউ নিয়া এতো নাচিস না।যুগ বড়ই খারাপ, বউকে তোর আয়ত্বের বাহিরে কখনোই পা দিতে দিবিনা, তাইলে যে নালে তুই উৎপত্তি হইসছ,সে নালেই তুই বিনাশ হইবি।

কিন্তু কে শোনে কার কথা।

কালা হুরমুজের বউ রং নাম্বারে পরিচয় হয়ে কোন এক পুরুষের লগে ভাইগ্যা গেছে। তারে বার বার কইছি, তোর বউয়ের চলন বলন ঠিক দেখতাছিনা,দোকান সামলাইলেই হবেনা, বউটারেও সামলা।

শেষ পর্যন্ত বউ বুইড়া আঙ্গুল দেখাইয়া ভাগছে।

আমি কি বলবো, বুঝে উঠতে পারছিলাম না,অমনি হেকমত চাচা আবার বলা শুরু করলো-

আমাদের যুগে পুরুষ লোক ঘরে বউ রাইখা আরো কয়েকটা বিয়া কইরা ঘরে বউ তুলতো,

আর এখন কি যুগ আইলোরে বাবা!ঘরে জামাই রাইখা আরেক বেডা ধইরা ঘরের বউয়েরা ভাইগ্যা যায়।

হেকমত চাচার এমন খাসা খিস্তিখৈর কথার জবাব আমার কাছে নেই। তাই নীরবে চাচারে,এতটুকুই কইলাম--চাচা,যুগের কোনো দোষ নাই। খারাপ তো আমরাই সৃষ্টি করি। আমরা আপনারা সবাই যদি অংকুরেই নারী পুরুষ উভয়কেই সৃষ্টাচার, সভ্যতা, নৈতিকতা, এগুলোর তালিম পরিপূর্ন দিতে পারতাম,তাহলে হয়ত আজকের এই দিনটা আমাদের দেখতে হতো না।

কালা হুরমুজ ভাইয়ের জন্য আমার আফসোস, কিবা তিরস্কার কোনোটাই নাই। আমাদের সমাজ দূষিত হয়ে গেছে। এখানে কালো মেয়ে,ধলা মেয়ে বলে কথা নয়, বরং সিস্টেমটাই আমরা পুরুষরা আধুনিকতার দোহাই দিয়ে পাল্টিয়ে ফেলেছি।

আগে আমরা সকালে ঘরে ঘরে কুরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ শুনতাম। এখন সকাল হলেই বাংলার ঘর থেকে স্টার জলসার "কে আপন কে পর, এর নাটকরুপি ধারাবাহিক থিসিস শুনি। এগুলোই তো, হিংসা, বিদ্বেষ, পরকীয়া,জগড়া, বিবাদ ইত্যাদির জন্ম দিচ্ছে গৃহকোনে থাকা অগনিত নারী জাতিকে।

এ থেকে উত্তরনের জন্য আমাদের আবার অতীতে ফিরে গিয়ে ধর্মের শিখরে আবার ন্যায় দন্ড হয়ে দাড়াতে হবে।

তা না হলে আগামীতে কালা হুরমুজের মতো এমন হাজারো হুরমুজরা বউ হারা হবে এই অপসংস্কৃতির ছোবলে দংশিত হয়ে।

 

মো ইব্রাহীম খলিল

Tags:

About author
আমি গল্প এবং বই প্রেমিক একজন মানুষ। গল্প এবং বই পড়তে খুবই ভালোবাসি। যেখানেই যে গল্প অথবা কাহিনী খুজে পাই সেগুলো সংগ্রহ করি এবং আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করি। আমি নিজেও কয়েকটি গল্প লিখেছি তবে সেগুলোর সংখ্যাটা খুবই সামান্য।