মেয়ের চোখ বড় বড়।
আম্মার কথায় আমি ওনার দিকে শান্ত চোখে তাকাই।এদিক ওদিক চোখ বুলিয়ে নরম গলায় বলি,
-কি বললে?
আমার কথায় আম্মার জোর গলা,
-কি বলেছি শুনতে পাস নি?মেয়ের চোখ বড় বড়।
-এটাই কি তাহলে মেয়ে পছন্দ না হওয়ার কারণ?
-হ্যা।
আম্মার কথায় আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলি।এত মেয়ে দেখার পর এই একটা মেয়েকে আমার কোন কারন ছাড়াই ভাল্লাগলো,সেটাও আম্মার অপছন্দ।অবশ্য কারণ ছাড়া যে ভাল লেগেছে তেমনও না।ভাললাগাতে অবশ্যই কোন কারণ থাকে।আমারও আছে।তবে বুঝতে পারছি না।আমি আম্মার কথায় আর কিছু বলি না,বলতে পারিনা।
চা, বিস্কিটে ভরা ট্রে নিয়ে যে মেয়েটা আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে আজ তাকেই আমরা দেখতে এসেছি।ছেলে মেয়ে বড় হলে বাবা মায়ের কাধে নতুন দায়িত্ব। ছেলে,মেয়ের বিয়ে দিতে হবে।সে দিক থেকে আমার আর আজ যাকে দেখতে এসেছি তার বাবা মায়ের কাধও ভারী হয়ে আছে।এই ভারী হওয়ার মাঝেই মেয়েটা আমাদের সামনে থাকা টেবিলটাতে ট্রে রাখতে রাখতে সালাম দিলো।মেয়ের বাবা মেয়েকে বসিয়ে দিলেন পাশের সোফায়।আমার এখান দেখতে দেখতে হলে ঘাড় বাকাতে হয় একটু।লজ্জায় পুরোপুরি তাকানোও যায় না।মাথার সাথে সাথে চোখ দুটোও নিচের দিকে।মুখ দেখার আগে পা দেখে নেওয়াটাও জরুরী।যে মেয়ের পা সুন্দর সে মেয়ের মুখও সুন্দর হতে হবে।সে হিসেবে আমি যাকে আজ দেখতে এসেছি তার পা বেশ সুন্দর দেখাচ্ছে।আমার এই পা দেখার মাঝেই আম্মা মেয়েটার নাম জিজ্ঞেস করলেন।
তাসনিয়া তাসনিম মিহিন। মিষ্টি কন্ঠে নামটা শুনে আমার নিজেরই কেমন যেন ভাল লাগলো।যার কন্ঠ এত মিষ্টি যে দেখতেও হবে মাশাআল্লাহ।এতকিছুর পর মিহিনের সাথে আমার আলাদা কথা বলার বন্দোবস্ত করা হলো।মিহিনের রুমে।
চুপচাপের মিনিট কিছু পরে নীরবতা ভেঙে মিহিন বললো,
-আমাকে কি আপনার পছন্দ হয়েছে?
মিহিনের কথায় আমি ওর দিকে তাকালাম।ভারী মিষ্টি একটা মেয়ে।চোখ দুটো একটু বড়, সেটাও যেন মুখের সাথে বেশ মানিয়ে গেছে।চোখ দুটোতে সৌন্দর্য যেন আরও বেড়ে গেছে।আমার চুপ থাকায় মিহিন আবারও বললো,
-কি পছন্দ হয়নি, তাইনা?
মিহিনের কথায় আমি মুচকি হেসে আস্তে করে বললাম,
-কেন এমন মনে হলো?
-কারন এই চোখ বড় বড় মেয়েটাকে এর আগেও অনেকে রিজেক্ট করে গেছে।আমার মনে হয় আপনারও এই কারনেই আমাকে পছন্দ হবে না।ঠিক বলেছি না?
মিহিনের কথায় আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলি।নরম গলায় বলি,
-আপনাকে আমার পছন্দ হয়েছে।প্রত্যেকেরই নিজস্ব একটা সৌন্দর্য থাকে।আপনার সৌন্দর্য হচ্ছে এই চোখ।
আমার কথায় মিহিন ভারী গলায় বললো,
-মিথ্যে আশ্বাস না দেওয়াটাই ভাল।চলুন যাওয়া যাক। কথাটি বলেই মেয়েটা পা বাড়ালো।বাইরের দিকে।আমিও উঠলাম।বের হলাম মিহিনের পিছু পিছু। ওখান থেকে আসার আগে আমি মিহিনের ফোন নাম্বার নেওয়ার সাথে সাথে ওর দিকে আরও একবার তাকালাম।ওর চোখ দুটো যেন আমাকে টানছে।কিছু একটা বলতে চাচ্ছে।বলতে পারছে না।আর এই বলতে না পারার কষ্টে চোখদুটো যেন ভিজে উঠেছে। ভিজে উঠেছে।
আমি বিছানায় গা এলিয়ে দিতে দিতে মিহিনের কথাটা আবারও ভাবতে লাগলাম।ও বলেছিল,এই বড় চোখ ওকে পছন্দ না হওয়ার কারন।হয়েছেও সেটাই।আম্মার অপছন্দের কারন ওই বড় বড় চোখ।কিন্তু আমার চোখে সেই স্নিগ্ধ কোমল চোখদুটো যেন আটকে আছে এখনও।ভুলতে পারছি না।হয়তো ভুলতে পারবো না।এই না পারার মাঝেই আমি আম্মার রুমের দিকে যাই।ওনার পাশে বসতে বসতে বলি,
-মেয়েটা কিন্তু সুন্দর আছে।চোখগুলা একটু বড় বড় হলেও মায়া আছে কিন্তু।
আমার কথায় আম্মা আমার দিকে শান্ত চোখে তাকালেন।নরম গলায় বললেন,
-তোর পছন্দ?
আম্মার কথায় আমি মাথা নাড়িয়ে জানান দিলাম মেয়েটাকে আমার ভাললেগেছে।আমি এই বড় চোখ ওয়ালা মেয়েকেই বিয়ে করতে চাই।
আমার মাথা নাড়ানোয় আম্মা মুচকি হাসলেন।আমার কাধে হাত রাখতে রাখতে বললেন,
-বিয়ে তুই করবি,আমি না।তোর পছন্দই আমার পছন্দ।
কথাটা বলতে বলতে আম্মা উঠে দাড়ালেন।মুচকি হেসে বললেন,
-তাহলে বিয়েটা হয়েই যাক।কথা বলি ওনাদের সাথে। বলতে বলতেই আম্মা রুম থেকে বের হয়ে গেলেন।আমি কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলাম আম্মার চলে যাওয়ার দিকে।এত সহজেই মেনে যাবে ভাবতেও পারিনি।অবশ্য কথাটা তিনি মন্দ বলেননি।বিয়ে তো আমি করবো,পছন্দটাও আমারই করা উচিত। আমি আর ভাবতে পারিনা।কল দেই।মিহিনের নাম্বারে।
দু বার রিং হতেই ওপাশের মিষ্টি কন্ঠ, কি মেয়ে পছন্দ হয়নি এটা বলতেই ফোন করেছেন?
মিহিনের কথায় আমি একটু চুপ থেকে নরম গলায় বলি,
-মেয়েটার স্নিগ্ধ কোমল চোখ আমাকে আটকে ফেলেছে।বিয়েটা হচ্ছে মিহিন,বিয়েটা হচ্ছে।
আমার কথায় ওপাশে নীরবতা।একটু পর শোনা যাবে কান্নার আওয়াজ।হয়তো কিছু পাওয়ার আনন্দে নয়তো আজ থেকে কিছু একটা শুনতে না পারার আনন্দে।যেটাই হোক সেদিকে আমার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।আমি ভাবছি আমাদের বিয়েটা নিয়ে।বড় বড় চোখওয়ালীর সাথে বিয়েটা হচ্ছে।হ্যা,বিয়েটা হচ্ছে।
.
.
লেখায়, Abdul Ahad
Comments (0)